ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত: উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

reporter

প্রকাশিত: ০১:৫৭:৩৪অপরাহ্ন , ১৪ জুন ২০২৫

আপডেট: ০১:৫৭:৩৪অপরাহ্ন , ১৪ জুন ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতে। এই প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, “ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং তেল আবিবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—এটুকু যথেষ্ট। এখন থামার সময় এসেছে। শান্তি ও কূটনীতির জয় হোক।”

বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে একটি সামরিক অভিযানে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এই অভিযানে রাজধানী তেহরান ছাড়াও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় প্রাণ হারান ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি, খাতাম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলি রশিদ, এবং ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানীসহ অন্তত ৭৮ জন।

ইসরায়েলের এই হামলার জবাবে শুক্রবার রাতে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩’ নামে নতুন অভিযান শুরু করে ইরান। এ সময় বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ইরানের ছোড়া মিসাইলগুলো তিন ধাপে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানীতে আঘাত হানে। এতে এক নারী নিহত হন এবং অন্তত ৪৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে তেল আবিবের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ইরানি হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে মাটির নিচে বিশেষ বাংকারে আশ্রয় নেন। এ সময় তিনি জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজকের সঙ্গে কথা বলে তেল আবিবের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। ফন ডার লিয়েন বলেন, “আমি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। উত্তেজনা হ্রাসে সক্রিয় ও কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকা এখন অত্যন্ত জরুরি।”

বিশ্বজুড়ে এই উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাষ্ট্র নেতৃত্ব পর্যায়ের ব্যক্তিরা সংঘর্ষ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। উভয় পক্ষের সেনাবাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, এবং সীমান্তে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

reporter