ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

গর্তে থাকা ব্যক্তিরা এখন সংস্কারের তালিম দিচ্ছে: আমীর খসরু

reporter

প্রকাশিত: ০৬:৫৩:২৯অপরাহ্ন , ১৩ মে ২০২৫

আপডেট: ০৬:৫৩:২৯অপরাহ্ন , ১৩ মে ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

গত ১৭ বছর যারা রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে আড়ালে ছিলেন, তারাই এখন সংস্কারের শিক্ষা দিচ্ছেন—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা আজ সংস্কারের কথা বলছেন, তাদের অনেকের মুখও আমরা চিনি না। রাজপথে তাদের উপস্থিতিও দেখা যায়নি। শেখ হাসিনার শাসন দমন-পীড়নের মুখে এরা গর্তে ঢুকে পড়েছিল এবং আর সেখান থেকে বের হয়নি। আজ হঠাৎ গর্ত থেকে উঠে এসে এরা আমাদের সংস্কারের পাঠ পড়াচ্ছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। স্মরণসভাটি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

আমীর খসরু বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। সেই প্রস্তাব শুধু বিএনপির একক চিন্তার ফসল নয়, বরং দেশের সর্বস্তরের মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং একটি গ্রহণযোগ্য ভবিষ্যতের রূপরেখা। তিনি বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী দেশকে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ কোথায় ঐকমত্য হয়েছে, সেই বিষয়ে সরকার কিছু বলছে না। কেন বলছে না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন যে শেখ হাসিনার পরিবর্তে এখন অন্য কারও মালিকানায় বাংলাদেশ চলে যাবে, এবং তারা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, তাহলে সেটি সম্পূর্ণ ভুল। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মালিক একমাত্র দেশের জনগণ। জনগণের মতামত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তই বৈধ নয়।

সংস্কার নিয়ে বিস্তারিতভাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো পরিবর্তনের জন্য জনসমর্থন অপরিহার্য। অতীতে কেউ জনগণের কাছে গিয়ে সংস্কারের প্রস্তাব দেয়নি, কিন্তু বিএনপি সেই ব্যতিক্রমী কাজটি করছে। কারণ, প্রকৃত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই টেকসই সংস্কার সম্ভব। শুধু কাগজে-কলমে বা সভা-সেমিনারে সংস্কারের কথা বললেই হবে না, সেটা মাঠে বাস্তবায়ন করতে হলে মানুষের অংশগ্রহণ লাগবে।

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকার একটি মানবিক করিডর দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের জনগণের মতামত ছাড়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারা আছে, সেই প্রশ্নের উত্তর সরকার দিচ্ছে না। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে, জনগণকে অবহিত না করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা নিঃসন্দেহে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

আমীর খসরু আরও বলেন, একটি অনির্বাচিত সরকার আজ দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বসে আছে। তারা এমন সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যার সঙ্গে দেশের জনগণের কোনও সম্পর্ক নেই। বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র জনগণের। তাই যে কোনো রকম পরিবর্তন বা সংস্কার আনতে হলে, তা হতে হবে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

স্মরণসভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন একজন সংগ্রামী এবং আপসহীন কণ্ঠস্বর, যিনি সব সময় গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলতেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

সভা শেষে বক্তারা সম্মিলিতভাবে বলেন, দেশ আজ এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, একটি নিরপেক্ষ সরকার এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো। সবার কাছে আহ্বান জানানো হয়, রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার।

reporter