ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমানসহ সব আসামির খালাসের আপিল শুনানি ৪ মে

reporter

প্রকাশিত: ০২:৩৯:৩৬অপরাহ্ন , ২৭ এপ্রিল ২০২৫

আপডেট: ০২:৩৯:৩৬অপরাহ্ন , ২৭ এপ্রিল ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী ৪ মে দিন নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ। আজ রবিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানির এ তারিখ ঠিক করেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপিপন্থী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

গত ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেন। এই রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে, যার শুনানি এখন হতে যাচ্ছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির শতাধিক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন। হামলার নৃশংসতায় দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার একটি বিচারিক আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার পর একই বছরের ২৭ নভেম্বর মামলার রায় ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। মামলার নথিপত্র ছিল প্রায় ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্ঠা। এরপর হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক তৈরি করা হয়।

নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জনের মধ্যে ছিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, জঙ্গি নেতা মাওলানা তাজউদ্দীনসহ একাধিক ব্যক্তি। এছাড়া মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা আবু সাইদ, মুফতি মঈনউদ্দিন শেখ ওরফে আবু জান্দাল, হাফেজ আবু তাহের, মো. ইউসুফ ভাট ওরফে মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক, মফিজুর রহমান ওরফে মহিবুল্লাহ, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হোসাইন আহমেদ তামিম, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ এবং মো. উজ্জ্বল ওরফে রতনও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তালিকায় ছিলেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৯ আসামির মধ্যে রয়েছেন শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর, আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, আরিফ হাসান ওরফে সুজন, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর ওরফে সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফসহ বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে অনেকেই পলাতক রয়েছেন, যেমন মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন, মো. খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মুফতি শফিকুর রহমান এবং মুফতি আবদুল হাই।

উল্লেখ্য, এ মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, আপিল শুনানির মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং যেসব অভিযোগে বিচারিক আদালত দণ্ড দিয়েছেন, তা আরও শক্তভাবে আদালতে প্রতিফলিত হবে।

আগামী ৪ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া আপিল শুনানিকে কেন্দ্র করে মামলাটির অগ্রগতিতে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞরা। রাষ্ট্রপক্ষ ইতোমধ্যে আপিলের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে শুনানিতে উপস্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আসামিপক্ষও নিজেদের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের দাবি, হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় যথাযথ এবং তা টিকিয়ে রাখার জন্য তারা সর্বাত্মক আইনি প্রচেষ্টা চালাবেন।

এই মামলার ফলাফল শুধু বিচারব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। একুশে আগস্টের ভয়াবহতার স্মৃতি এখনও জাতির মনে তাজা। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় পুরো জাতি তাকিয়ে আছে আপিল বিভাগের দিকে।

reporter