ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৫ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

এফবিসিসিআই নির্বাচনে গতি আনতে নির্বাচন বোর্ড গঠন করল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

reporter

প্রকাশিত: ০৭:১৭:৪০অপরাহ্ন , ০৩ জুন ২০২৫

আপডেট: ০৭:১৭:৪০অপরাহ্ন , ০৩ জুন ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

প্রায় আট মাস পর প্রশাসকের দায়িত্বকালেও নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা, শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করে কার্যক্রম শুরু করবে বোর্ড


দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর নতুন পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন বোর্ড এবং নির্বাচন আপিল বোর্ড গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সোমবার (২ জুন) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন দুই বছরের মেয়াদি পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) মো. আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া সদস্য হিসেবে থাকছেন যুগ্মসচিব (আইআইটি-২ অধিশাখা) মুর্শেদা জামান এবং যুগ্মসচিব (ডব্লিউটিও-৩ অধিশাখা) মুস্তাফিজুর রহমান।

নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান। তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে থাকবেন যুগ্মসচিব (প্রশাসন-২ অধিশাখা) তানভীর আহমেদ এবং উপসচিব (রপ্তানি-৪ শাখা) ড. রাজ্জাকুল ইসলাম।

এই বোর্ড শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা গেছে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাণিজ্য সংগঠনের সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় পরিবর্তন এনে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। সংশোধিত নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি পরিচালক হতে পারবেন না এবং পর্ষদের আকার অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব পদক্ষেপ এফবিসিসিআইয়ের সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রশাসক নিয়োগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এফবিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের অনেকে সেই সময় পদত্যাগ করেন। একই দাবি তোলে সংগঠনের একটি অংশ। এরই প্রেক্ষিতে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর সরকার ফেডারেশনের পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য মো. হাফিজুর রহমানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। তাকে ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বর্তমানে এফবিসিসিআইয়ের কোনো নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ নেই। প্রশাসক হিসেবে মো. হাফিজুর রহমান দৈনন্দিন কার্যক্রম চালালেও ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংগঠনটির কার্যকর ভূমিকা অনুপস্থিত। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, এফবিসিসিআইয়ের মতো একটি প্রভাবশালী সংগঠনের নেতৃত্বহীনতা দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশ ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, চলমান সংকটের সময় ফেডারেশন থেকে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া, বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো এবং বাস্তবসম্মত প্রস্তাব উপস্থাপন করা জরুরি ছিল। কিন্তু ২ জুন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করলেও এবারের বাজেট নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া বা মতামত দেওয়া হয়নি।

এদিকে, সংগঠনের সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ এবং সিদ্ধান্তহীনতার ফলে অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, সংগঠনটি কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে। দাবি আদায়ে তারা সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারছেন না। এছাড়া নতুন নির্বাচন নিয়ে স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির দাবি উঠেছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে।

নির্বাচন বোর্ড গঠনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি নতুন গতি পেলেও ব্যবসায়ী সমাজ আশা করছে, এবার আর বিলম্ব না করে একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে এফবিসিসিআই-কে আবারও তার পূর্ণ কার্যক্ষম অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

reporter