ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪২ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

দ্রুত সংস্কার করে জাতীয় নির্বাচন দিন: মির্জা ফখরুল

reporter

প্রকাশিত: ০৯:০১:০৮অপরাহ্ন , ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০৯:০১:০৮অপরাহ্ন , ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

যশোর: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার দল কোনো বিরোধ চায় না, সংঘাতেও জড়াতে চায় না, তবে অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই দ্রুত সংস্কার শেষ করে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা যাবে না, কারণ দেশের মানুষ প্রথমেই সংসদ নির্বাচন চায়, তারপর স্থানীয় নির্বাচন।

মঙ্গলবার বিকেলে যশোর টাউন হল ময়দানে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি তাদের ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা থাকে, তবে তাদের উচিত পদত্যাগ করে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া। তিনি বলেন, “আপনারা যদি রাজনীতি করতে চান, তাহলে দল গঠন করুন, নির্বাচনে অংশ নিন এবং জনগণের সামনে আসুন। কিন্তু সরকারে বসে কোনও দলের পক্ষাবলম্বন করা চলবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি, কোনো কোনো দল আগে স্থানীয় নির্বাচন চায়, কেউ কেউ বলছে এখন নির্বাচনের পরিবেশ নেই। কিন্তু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে কে? জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বর্তমানে দেশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। অথচ এই অবস্থার উন্নতি করার জন্য সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।”

তিনি বলেন, “আজকের এই সমাবেশে আমরা উপস্থিত হয়েছি কারণ আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা চাই। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই যেখানে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নিজেরা নির্বাচন করতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যদি বলতে পারতাম যে আমরা ভালো আছি, তাহলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের পথে। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বর্তমান সরকার পরিবর্তন হলেও আমরা এখনো পুরোপুরি মুক্ত হতে পারিনি।”

তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা মুক্ত হব সেদিন, যেদিন এই দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে, জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে, এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসবে। সেই লক্ষ্যেই আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

সমাবেশে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল ইসলাম তৃপ্তি, সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য টিএস আইয়ুব, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এই সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়, যারা বিভিন্ন দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং আগামী দিনের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান

reporter