ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৫ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

চবি এলাকায় সংঘর্ষের পর ১৪৪ ধারা জারি, উত্তেজনা ছড়িয়েছে হাটহাজারীতে

reporter

প্রকাশিত: ০৭:২০:২৪অপরাহ্ন , ৩১ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ০৭:২০:২৪অপরাহ্ন , ৩১ আগস্ট ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের পর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন হাটহাজারী পৌর এলাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনার পর হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আশপাশের কিছু বাসিন্দার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নানা কারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা বাড়ছিল। আজ দুপুরে সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক দফায় এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট এলাকা থেকে হাটহাজারী পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা আছেন। তাদের নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সঠিক কতজন আহত হয়েছেন সে বিষয়ে প্রশাসন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

পরে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘোষণা দেন, বিকেল ৩টা থেকে আগামীকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে। এর ফলে এ সময়ে চারজনের বেশি লোকের একত্রিত হওয়া, সভা-সমাবেশ করা কিংবা যেকোনো ধরনের মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি হঠাৎ করেই শুরু হয়। দুপুরে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে উভয়পক্ষ মারমুখী হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি প্রশাসনও কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে যাতে এলাকায় নতুন করে কোনো সংঘর্ষ বা উত্তেজনা তৈরি না হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে বারবার এ ধরনের ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তার অভাব থাকায় প্রায়ই এ ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি দেখা দেয়। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীরা মাঝে মাঝে উসকানিমূলক আচরণ করেন, যা উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হয়। উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির এক নেতা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে স্থানীয়দের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, কিন্তু এর জন্য প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

এদিকে, হাটহাজারী থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

১৪৪ ধারা জারির ফলে এলাকায় জনজীবনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তড়িঘড়ি করে বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ অযথা বাইরে বের হতে দ্বিধাগ্রস্ত। অনেকে আতঙ্কে বাড়ি থেকে বের হননি। শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্লাস বন্ধ করে হলে ফিরে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সার্বিক পরিবেশ এখনো থমথমে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন থেকেও এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ প্রশাসনের পদক্ষেপকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ মনে করছেন কেবল ১৪৪ ধারা জারি করেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন টেকসই সমাধানের, যাতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন করা যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। অতীতেও একাধিকবার এমন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তবে এবারকার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন শিক্ষার্থীরা নতুন সেমিস্টারের কার্যক্রম শুরু করেছেন। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও অশান্তি বিরাজ করছে।

উপজেলা প্রশাসন আশা করছে, ১৪৪ ধারা জারির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। তবে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে এ ধারা আরও বাড়ানো হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বলেছে, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

পরিস্থিতি কতটা দ্রুত শান্ত হবে, তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের সংযম এবং প্রশাসনের পদক্ষেপের ওপর। আপাতত পুরো হাটহাজারী ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা নজরদারির মধ্যে রয়েছে এবং সবাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায়।

reporter