ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ

reporter

প্রকাশিত: ০৬:৩৭:৩০অপরাহ্ন , ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০৬:৩৭:৩০অপরাহ্ন , ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের আউটার এলাকায় রেলক্রসিংয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে এসে নির্ধারিত বিরতির পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন ত্যাগ করে। স্টেশন থেকে কয়েকশ গজ দূরে যাওয়ার পর হঠাৎ একটি বগি বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো রেলপথে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

ঘটনার পরপরই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রাথমিক খবরে জানা গেছে, কোনো যাত্রী হতাহত হয়নি। আতঙ্কিত যাত্রীদের নিরাপদে ট্রেন থেকে নামিয়ে আনা হয় এবং ঘটনাস্থলে রেলওয়ে কর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী মাস্টার সাকির জাহান জানান, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তিনি বলেন, “লাইনচ্যুতির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে সঠিক কারণ জানা যাবে।” এদিকে আখাউড়া জংশন থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

লাইনচ্যুতির ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট রুটের একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে। যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকে ট্রেনের ভেতরে অপেক্ষা করতে থাকেন, আবার কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনের সন্ধানে রওনা দেন। এ কারণে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ তীব্র শব্দ শুনে তারা ছুটে আসেন এবং ট্রেনের একটি বগিকে লাইনচ্যুত অবস্থায় দেখতে পান। তারা দ্রুত যাত্রীদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তবে অনেক যাত্রী ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সময় লেগে যায়।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথমে লাইনচ্যুত বগিটি সরিয়ে নিতে কাজ করা হবে, এরপর রেললাইন পরীক্ষা করে চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। তবে কাজ শেষ হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা বেড়ে গেছে। প্রতিটি ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

দুর্ঘটনার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশপাশে যানবাহনের চাপও বৃদ্ধি পায়। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী বিকল্প হিসেবে সড়কপথে যাত্রা শুরু করেন, ফলে মহাসড়কেও চাপ বেড়ে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

যাত্রীরা জানান, হঠাৎ লাইনচ্যুতি এবং দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজে ঢাকায় বা চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়েকজন যাত্রী দাবি করেন, ট্রেনের রেললাইন নিয়মিত পরীক্ষা করা হলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতো না।

রেলওয়ের একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত দল গঠন করা হবে। তারা রেললাইন, সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা করবেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে, ঘটনাস্থলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উপস্থিত হয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তারা যাত্রীদের শান্ত থাকতে আহ্বান জানান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রেললাইন মেরামতের কাজ চলতে থাকে। কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, উদ্ধারকাজ শেষ হলে শিগগিরই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

এ দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল রেলপথের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা। যাত্রীদের দাবি, শুধু উদ্ধারকাজ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে হবে।

reporter