ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

বিএনপি মৌলিক সংস্কারে বাধা দিচ্ছে: আখতার হোসেন

reporter

প্রকাশিত: ০৯:৪২:৪৬অপরাহ্ন , ১৫ জুলাই ২০২৫

আপডেট: ০৯:৪২:৪৬অপরাহ্ন , ১৫ জুলাই ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ঐকমত্য প্রক্রিয়ায় বিএনপির অবস্থান নিয়ে এনসিপি’র সদস্যসচিবের অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্যের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে বিএনপি। তিনি জানান, মৌলিক সংস্কারে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, সেসব প্রশ্ন সামনে এলেই বিএনপি এবং তাদের সঙ্গে থাকা কিছু দল সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার ১৪তম দিনের আলোচনা শেষে আখতার হোসেন এসব মন্তব্য করেন।

আখতার হোসেন বলেন, অধিকাংশ দল উচ্চকক্ষে পিআর (প্রোপর্শনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চালুর ব্যাপারে একমত হলেও বিএনপি ও তাদের সঙ্গে থাকা গুটিকয়েক দল সেই পদ্ধতির বিরোধিতা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঐ দলেরা এই ইস্যুকে সংস্কার কমিশনের আলোচনার বাইরে রাখার প্রবণতা দেখাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু হলে যেসব দলের অন্তত এক শতাংশ ভোট রয়েছে, তারাও উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে। ফলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, মৌলিক সংস্কারকে এখন এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন সেটি শুধুই পরিসংখ্যানের বিষয়। তবে প্রকৃতপক্ষে এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য। আখতার হোসেন দাবি করেন, বিএনপিসহ কিছু দল ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিবেশ তৈরি করছে, যাতে মৌলিক সংস্কারের আলোচনা ঐকমত্যের আওতার বাইরে চলে যায়।

এনসিপি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির মতো মৌলিক সংস্কারে কোনো রকম ছাড় দেবে না। আখতার হোসেন বলেন, এই পদ্ধতির মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে যেখানে দেশের ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দল ন্যায্যভাবে অংশ নিতে পারবে।

বিএনপির অবস্থান নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রকে এখন তিনি একটি ভাঙা পা নিয়ে হাঁটছে বলে মনে করেন। তার ভাষায়, ‘‘রাষ্ট্রের সেই ভাঙা পায়ে বিএনপি শুধু ব্যান্ডেজ লাগিয়েছে এবং স্যাভলন দিয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা হাড় ভেঙে যাওয়া, সেটিকে জোড়া লাগাতে হবে। সেখানে গিয়ে তারা আপত্তি করছে। বিএনপির বক্তব্য হলো, ব্যান্ডেজ লাগানো হয়েছে, স্যাভলন দেয়া হয়েছে, এটাই যথেষ্ট। এর বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই।’’

আখতার হোসেনের মতে, এই ধরনের অবস্থান মৌলিক সংস্কারকে শুধু ব্যাহতই করছে না, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চিত করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা হাড়টাকে জোড়া লাগানোর কথা বলছি, সেটি ছাড়া দেশ সুস্থভাবে চলতে পারবে না। বিএনপি সেই জায়গাটিতে এসে পিছিয়ে যাচ্ছে।’’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চলমান আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। তবে বিশেষভাবে পিআর পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ দেখা যাচ্ছে। আখতার হোসেন জানান, এনসিপি এই পদ্ধতির পক্ষেই থাকছে এবং দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চাপ ও দাবি অব্যাহত রাখবে।

এনসিপি’র পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, মৌলিক সংস্কার ছাড়া দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব নয়। সেই সংস্কারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে এনসিপি তা গ্রহণ করবে না বলেও আখতার হোসেন শেষ কথা জানান।

reporter