ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

বেনজীরের গুলশানের ফ্ল্যাটের ব্যবহৃত সামগ্রী নিলামে, দুদকের অনুসন্ধানে অবাক কমিটি

reporter

প্রকাশিত: ০৭:৫০:৪১অপরাহ্ন , ২৩ জুলাই ২০২৫

আপডেট: ০৭:৫০:৪১অপরাহ্ন , ২৩ জুলাই ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

সাবেক আইজিপির পরিবারের ২৪৬টি বিলাসবহুল জিনিসপত্র জব্দ, নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আদালত গঠিত কমিটি

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গুলশানের বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে থাকা পরিবারের ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত গঠিত একটি কমিটি। সোমবার (২১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, কয়েক দিনের মধ্যেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব সামগ্রী নিলামে তোলা হবে।

ঢাকার র‌্যান্কন টাওয়ারের চারটি আধুনিক ফ্ল্যাট (১২/এ, ১২/বি, ১৩/এ, ১৩/বি) একত্র করে তৈরি করা হয় একটি ডুপ্লেক্স ইউনিট, যা বেনজীর দম্পতির বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হতো। এই বিলাসবহুল আবাসনের মধ্যে রয়েছে সুইমিংপুল, মিনি থিয়েটার, অতিথি বিনোদনের আলাদা বৈঠকখানা এবং আধুনিক সব সুবিধা।

আদালতের নির্দেশে গঠিত নিলাম কমিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে সভাপতি করা হয়েছে। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের একজন প্রতিনিধি, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি এবং ইস্পাত প্রকৌশল অধিদপ্তরের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দুদকের উপ-পরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা)। কমিটি ফ্ল্যাটে থাকা ব্যবহৃত জিনিসপত্রের তালিকা প্রস্তুত করেছে এবং নিলামের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে।

কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, বেনজীরের জব্দকৃত ২৪৬টি আইটেমের তালিকা দেখে সম্পদের মাত্রা তাদের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এক সদস্য বলেন, সম্পদের পরিমাণ দেখে মনে হয়েছে যেন ফিলিপাইনের সাবেক শাসক মার্কোস ও তার স্ত্রী ইমেলদা মার্কোসের সম্পদের তালিকা তৈরি করছি। আশির দশকে তাদের বিলাসবহুল জীবন বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

তালিকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রী। উদাহরণস্বরূপ, উদ্ধার করা হয়েছে ১২২টি শার্ট, ২৬৬টি প্যান্ট, ৩০টি ব্লেজার, ৮টি স্যুট, ৭২২টি টি-শার্ট, ২২৪টি পাঞ্জাবি, ৪৭টি পায়জামা, ৮৮ জোড়া স্যান্ডেল, ৩৫ জোড়া কেডস, ৩৮ জোড়া জুতা, ৪৯৪টি শাড়ি, ২৫০টি থ্রিপিস, ৪৯৬টি সালোয়ার-কামিজ, ৬৫টি ব্লাউজ, ২১২টি জামা, ৫৬টি জ্যাকেট, ১০৯টি বেডশিট, ৭৫টি লেডিস ভ্যানিটি ব্যাগ, ৬২২টি লেডিস টপস, ১১টি পুরুষদের সোয়েটার, ৩৪টি নারীদের সোয়েটার, ৩৫৫টি লেডিস প্যান্ট, ২৮টি লেডিস টি-শার্ট, ৫৮টি নাইট ড্রেস, ৩৪৭টি ওড়না, ৮৯টি শাল ও চাদর, ১৩২টি শীতের জামা, ১৬টি লেহেঙ্গা, ৩৪টি সানগ্লাস এবং ৬৭টি ট্রাউজার।

তালিকায় আরও রয়েছে ড্রয়িংরুম, বৈঠকখানা, থিয়েটার রুম, করিডোর, কিচেন ও বিভিন্ন বেডরুমের ব্যবহৃত আসবাবপত্র। পুরো ফ্ল্যাটে রয়েছে ১৯টি ফ্রিজ এবং ১০০ টনের শীততাপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি)। সুইমিংপুলেও রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। ফ্ল্যাটের দামি খাট, ডাইনিং টেবিল, সোফা, চেয়ার, আলমিরা, ওয়্যারড্রোবসহ মূল্যবান আসবাবপত্র আপাতত নিলামের বাইরে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার স্ত্রী জিশান মীর্জা ও দুই কন্যাকে নিয়ে গোপনে দেশত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালের ৪ মে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে চলে যান। পালানোর সময় তারা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে নিয়ে গেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এরই মধ্যে দুদক বেনজীরের বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে। পাশাপাশি বেনজীর, তার স্ত্রী এবং দুই কন্যার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো করা হয় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। তার স্ত্রী জিশান মীর্জা অর্জন করেছেন ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ এবং গোপন করেছেন ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার তথ্য। বড় মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৭৫ লাখ এবং ছোট মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটি এখন সম্পদ বিক্রির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এদিকে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা ও অনুসন্ধান আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

reporter