ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৮ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

আট মামলায় জামিন পেলেন ইমরান খান

reporter

প্রকাশিত: ০৮:৫৫:১৬অপরাহ্ন , ২১ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ০৮:৫৫:১৬অপরাহ্ন , ২১ আগস্ট ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান সামরিক বাহিনীর অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগে দায়ের করা আটটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এই জামিন মঞ্জুর করে। তবে এসব মামলায় জামিন পেলেও তিনি আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না, কারণ দুর্নীতির একটি মামলায় তার ১৪ বছরের সাজা বহাল রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ ইমরান খানের জামিনের রায় ঘোষণা করেন। এর আগে লাহোর হাইকোর্ট তাকে জামিন দিতে অস্বীকার করলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে।

তবে ইমরান খান এখনো তোশাখানা দুর্নীতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া একই মামলার আরও দুটি অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার আইনজীবীরা ইতোমধ্যে ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতি মামলার রায় ইসলামাবাদ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ প্রসিকিউটর জুলফিকার নকভি আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৯ মে ঘটে যাওয়া সহিংসতার নির্দেশ ইমরান খান নিজেই দিয়েছিলেন। তার মতে, এই ঘটনাকে ঘিরে দায়ের হওয়া আটটি মামলাই সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে বিচারাধীন এবং গত দুই বছরে বিভিন্ন আদালত বারবার তার জামিন আবেদন খারিজ করেছে।

প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি শুনানির সময় স্পষ্ট করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট মামলার মূল বিচারে যাবে না, কেবল জামিনের আবেদনই বিবেচনা করবে। এরপর প্রসিকিউটরের কাছে আদালত জানতে চায়, ইমরান খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কী রয়েছে। জবাবে প্রসিকিউটর জানান, মামলাগুলোতে তিনজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ডভুক্ত আছে।

তবে আদালত মনে করে, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত যুক্তি সন্তোষজনক নয়। প্রমাণের স্বপক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় শেষ পর্যন্ত জামিনের পক্ষে রায় দেন আদালত। ফলে বিশ্বের সাবেক অন্যতম সেরা ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদে রূপ নেওয়া ইমরান খান এই আট মামলায় জামিন পান।

ইমরান খানের আইনজীবী সালমান সফদার আদালতে যুক্তি উপস্থাপনের সময় বলেন, দায়ের করা আট মামলার মধ্যে পাঁচটিতেই ইমরান খানের নাম সরাসরি নেই। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে এসব মামলায় ইমরান খানের নাম জড়ানো হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন যে অভিযোগগুলো টেকসই নয় এবং প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে প্রসিকিউশন বারবার জোর দিয়ে দাবি করে যে ইমরান খানের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই সহিংসতা ঘটেছে। তবে আদালত পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকায় জামিন মঞ্জুর করে।

যদিও এই রায়ের মাধ্যমে ইমরান খান আংশিক স্বস্তি পেয়েছেন, তবুও রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে তার কারামুক্তি আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। দুর্নীতির মামলায় ঘোষিত সাজার কারণে তিনি কারাগারে থাকবেন। তার সমর্থকরা আশা করছেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আপিলের শুনানিতে রায় পরিবর্তন হলে ইমরান খানের মুক্তির পথ খুলে যেতে পারে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইমরান খানের এই জামিনকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তার দল পিটিআই নেতারা একে ন্যায়বিচারের অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তবে সরকারপক্ষ বলছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সহিংসতার অভিযোগগুলো গুরুতর এবং তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একদিকে ইমরান খানের প্রতি সমর্থন ধরে রাখা তার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তাকে সহজে মুক্তি দেওয়া হবে না।

এদিকে সাধারণ জনগণও নজর রাখছে এই মামলাগুলোর অগ্রগতির দিকে। অনেকের মতে, ইমরান খান জামিন পেলেও দুর্নীতির সাজা বহাল থাকায় তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে তার সমর্থকরা এখনও বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত তিনি মুক্তি পাবেন এবং রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসবেন।

reporter