ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু বন্ধের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

reporter

প্রকাশিত: ০৯:০৪:১৭অপরাহ্ন , ২৫ জুন ২০২৫

আপডেট: ০৯:০৪:১৭অপরাহ্ন , ২৫ জুন ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবসে বিবৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের মান রক্ষার আহ্বান 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (২৫ জুন), আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, গুম, বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা এবং শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার মতো ঘটনা এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে, যা একটি সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নির্যাতনের শিকারদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ পালিত হয় প্রতি বছরের ২৬ জুন। এ দিবসটি বিশ্বব্যাপী নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর এবং মানবাধিকারের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

মির্জা ফখরুল তার বিবৃতিতে বলেন, “আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল নির্যাতিত-নিপীড়িত, মজলুম মানুষ, জাতি, গোষ্ঠী ও ভাষাগত সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাই। ইতিহাস জুড়ে দেখা যায়— স্বৈরাচার, একনায়কতন্ত্র ও একদলীয় দমনমূলক শাসনের শিকার হয়ে মানুষ বারবার নির্যাতিত হয়েছে।”

তিনি বলেন, আধুনিক সভ্যতার উন্নতি সত্ত্বেও বিশ্ব এখনো মানবিক মূল্যবোধের দিক দিয়ে পিছিয়ে। জাতি, বর্ণ, ভাষা ও ধর্মের নামে বিশ্বজুড়ে হিংসা-সংঘাত চলছেই।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় সরকারের নিষ্ঠুর দমন নীতির ফলে বহু মানুষ প্রাণ হারায়, হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত জনগণের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়।

তিনি বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং কারাগারে ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সরকার জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা না রেখেই রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জনগণের কণ্ঠরোধ করেছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করতে গণমাধ্যমের ওপর চাপ, হুমকি, ভয়ভীতি এবং নিপীড়ন চালানো হয়েছে। গণতন্ত্রকামী দল ও ব্যক্তিদের ওপর চালানো হয়েছে দমন-পীড়নের চরম উদাহরণ। বাংলাদেশ যেন এক ভয়াল অন্ধকারে পরিণত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের প্রতীক বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বন্দি রাখা হয়েছে। তাকে সুচিকিৎসা না দিয়ে তার জীবনকে বিপন্ন করে তোলা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের একটি ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত।”

বিএনপির মহাসচিব বলেন, “রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা যেন ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের অধিকার পায়, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

তিনি বলেন, “আমি আজকের আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবসে জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি— আসুন, আমরা সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলি। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার হয়ে নির্যাতনকারী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।”

বিবৃতির শেষভাগে মির্জা ফখরুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অবসানের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরেন এবং নির্যাতনের শিকার সকল নাগরিকের প্রতি সংবেদনশীলতা ও সহমর্মিতার মনোভাব পোষণ করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র: বাসস

reporter