ছবি: ফাইল ছবি
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারের শাসনব্যবস্থার অবসানের পরও দেশে গুপ্ত পরিচয়ে সক্রিয় একটি গোষ্ঠী একই ধরনের দমনমূলক ও অবমাননাকর রাজনীতির চর্চা অব্যাহত রেখেছে, যা জনগণের জন্য নতুন করে ভয় ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিচ্ছে। বুধবার বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে এবং আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করবে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, ৫ আগস্টের পর যেভাবে স্বৈরাচারী শাসকরা জনগণকে অবমাননা করত, গুণীজনকে হেয় করত এবং ভিন্নমতকে দমন করত, সেই একই ভাষা ও আচরণ এখন গুপ্ত পরিচয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় কিছু গোষ্ঠীর মধ্যেও প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব গোষ্ঠীর নেতারা প্রকাশ্যে নারীদের নিয়ে অশালীন ও কলঙ্কজনক শব্দ ব্যবহার করছে, যা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়, বরং দেশের মা-বোনদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য গভীর হুমকি। তারেক রহমান বলেন, যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নারীদের সম্মান দিতে জানে না, তাদের কাছ থেকে জনগণ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা আশা করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, একটি জেলার এক নেতা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তারা জনগণের পা ধরবে, আর নির্বাচনের পর জনগণকে তাদের পা ধরতে হবে—এই বক্তব্যই প্রমাণ করে ক্ষমতার মোহে তারা জনগণকে কতটা তুচ্ছ মনে করে এবং তাদের মানসিকতা কতটা বিপজ্জনক। তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের গোষ্ঠী যদি নির্বাচিত হয়, তবে সাধারণ মানুষের জীবনে কী ভয়াবহ ও দুর্বিষহ পরিস্থিতি নেমে আসতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়, তাই জনগণকে এখনই সচেতন হয়ে তাদের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে এসব গোষ্ঠী বারবার স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এবং ১৯৭১ থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দশক ও সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও তারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা প্রমাণ করে তারা আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বরিশাল অঞ্চলের সমস্যার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নদীভাঙন এখানকার সবচেয়ে বড় সংকট এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, পাশাপাশি বহু উন্নয়ন প্রকল্প বিএনপির আমলে শুরু হলেও স্বৈরাচারী শাসনের কারণে সেগুলো সম্পন্ন করা যায়নি। তিনি আশ্বাস দেন, জনগণের রায়ে বিজয়ী হলে এসব অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করা হবে এবং জমে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নারীদের ঘরে বন্দী রেখে কোনো জাতি এগোতে পারে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নারী ও পুরুষ একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, গুপ্ত গোষ্ঠীগুলো নারীদের নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং ক্ষমতায় গেলে তারা জনজীবনে আরও দমন-পীড়ন চালাবে। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এই অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে গণতন্ত্র, মানবিকতা ও উন্নয়নের পক্ষে রায় দিতে এবং একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে।
reporter

