ছবি: Filed picture
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারকে আরও উৎসবমুখর করতে ক্যারাভ্যান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচারের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এই প্রচারের সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি বা জনদুর্ভোগ করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জারি করা ওই চিঠি দেশের সব রিটার্নিং অফিসারকে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমকে উৎসবমুখর করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ক্যারাভ্যান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচারের বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যানবাহনের চারপাশে ডিজিটাল প্রযুক্তি বা সাধারণ পচনশীল সামগ্রী ব্যবহার করে ক্যারাভ্যানের মাধ্যমে প্রচার চালানো যাবে।
তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করেছে কমিশন। প্রচারকালে কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না কিংবা সাধারণ মানুষের চলাফেরায় ভোগান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়—এমন কোনো কার্যক্রমও করা যাবে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালনে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এ সিদ্ধান্ত অবহিত করতে রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ বাড়াতে কমিশন বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। ক্যারাভ্যান ব্যবহারের অনুমতি তারই অংশ। এতে করে প্রার্থীরা সৃজনশীল ও আধুনিক পদ্ধতিতে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে পারবেন।
তবে কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, অতীতে নির্বাচনী প্রচারে শব্দদূষণ, যানজট ও জনভোগান্তির অভিযোগ থাকায় এবার বিষয়টিতে বিশেষ নজর রাখা হবে। কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল শর্ত লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্যারাভ্যান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানোর সুযোগ নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এ ধরনের প্রচার ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে কার্যকর হতে পারে। তবে গ্রামীণ এলাকায় এবং ব্যস্ত সড়কে এটি কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করছেন তারা।
এর আগে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার, ব্যানার ও মিছিল-মিটিংয়ের বিষয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। ক্যারাভ্যান ব্যবহারের অনুমতি সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেই প্রচারের একটি বিকল্প পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।
reporter


