ছবি: সংগৃহীত ছবি
ইতিহাসের এক বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হলো রাজধানী ঢাকা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে পুরো মহানগরী পরিণত হয় এক বিশাল জানাজার মাঠে। সকাল থেকেই লাখো মানুষ রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে ছুটে আসেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের চারপাশ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের প্রতিটি সড়ক জনসমুদ্রে রূপ নেয়। জানাজার কাতার কফিন থেকে দুই থেকে তিন কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। যারা সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি, তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে জানাজায় অংশ নেন।
আবেগ, শোক আর নীরবতার এক অনন্য দৃশ্য
এই জানাজা শুধু মানুষের সংখ্যার দিক থেকেই নয়, আবেগ, ভালোবাসা ও শোকের গভীরতায়ও অতীতের সব নজির ছাড়িয়ে যায়। দল-মত নির্বিশেষে মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন। অনেকেই রাজনীতির বাইরে দাঁড়িয়ে একজন সংগ্রামী নারীর প্রতি সম্মান জানাতে এসেছেন।
নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থায় জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়। জানাজা ও দাফন শেষে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকাজুড়ে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
মানুষের স্রোত, থমকে যাওয়া রাজধানী
দুপুর ২টায় জানাজার সময় নির্ধারিত থাকলেও সকাল ১১টার মধ্যেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পা ফেলার জায়গা ছিল না। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ দুই-তিন কিলোমিটার আগে যানবাহন রেখে হেঁটে আসেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শোকযাত্রায় অংশ নেন।
মেট্রোরেল ও স্টেশনগুলোতেও ছিল অস্বাভাবিক ভিড়। অনেক যাত্রী নির্ধারিত স্টেশনে নামতে না পেরে পরবর্তী স্টেশনে নামেন। কোথাও গাড়ি চলাচলের সুযোগ ছিল না, অলিগলিতেও মানুষ দাঁড়িয়ে জানাজায় শরিক হন।
জানাজা ও রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি
বিকাল ৩টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইমামের কণ্ঠে দোয়া শুরু হলে লাখো মানুষের সমাবেশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয় এবং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করা হয়।
সরকারের উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়।
এক যুগের সমাপ্তি
এই জানাজা কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রীর বিদায় নয়, এটি একটি যুগের সমাপ্তির প্রতীক। লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে—সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলালেও মানুষের ভালোবাসা ও স্মৃতি থেকে তাঁকে মুছে ফেলা যাবে না। ইতিহাসে এই জানাজা লেখা থাকবে অশ্রু, ভালোবাসা আর ঢাকাজুড়ে একদিনের থমকে যাওয়া জীবনের সাক্ষী হয়ে।
repoter

