ছবি: ফাইল ছবি
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের সহায়তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক তদন্ত চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সুযোগ পেলেই জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরকে এ ঘটনার তদন্তে প্রস্তাব দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এই মামলার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটন, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দফতরের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের বার্তা দিতে চায়, যাতে দেশি-বিদেশি মহলে আস্থা তৈরি হয় এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ বা বিতর্কের অবকাশ না থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার সহায়তা পাওয়া গেলে তদন্তে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সহজ হবে এবং প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা যায়। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে সরকার একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচার নিশ্চিত করতে চায়, যাতে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পায় এবং সমাজে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়।
রিপোর্টারঃ মোঃ নাজমুল ইসলাম ইমু
reporter


