ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৮ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

যুক্তরাষ্ট্রে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের আহ্বান জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

reporter

প্রকাশিত: ০৭:১৭:১৬অপরাহ্ন , ২১ জানুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০৭:১৭:১৬অপরাহ্ন , ২১ জানুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করেছে। তবে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আরও উদ্যোগী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে শরণার্থীদের পুনর্বাসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে সর্বাধিক দাতা দেশ হিসেবে কাজ করছে। ইউএস-এইডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা স্থানীয় এনজিওদের সঙ্গে মিলে রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার রোহিঙ্গাকে যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, রোহিঙ্গা সংকট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পুলিশ সংস্কার কমিশন, সীমান্ত পরিস্থিতি, সংখ্যালঘু অধিকার, এবং কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান প্রশংসনীয়। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়। সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা খাতে দেশটির সহযোগিতা বাংলাদেশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর করতে সাহায্য করেছে।

তিনি মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচার প্রতিরোধে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের আহ্বান জানান।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের আরও বেশি প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা করেছে। তবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেশে ফিরে নিজ কর্মক্ষেত্রে কাজ করা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এই প্রশিক্ষণ থেকে যথাযথ ফল পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানোর পাশাপাশি ডাটাবেজ আপডেটের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক। ভারতের সঙ্গে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠক শিগগিরই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে।

সংখ্যালঘু ইস্যুতে জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ মিথ্যা এবং ভারতীয় গণমাধ্যমের অপপ্রচার। তিনি বলেন, "সংখ্যালঘু শব্দটি আমরা ব্যবহার করতে চাই না। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং সবার সমান অধিকার রয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে, ধর্মীয় কারণে নয়।"

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রেসিডেন্ট লিগ্যাল অ্যাডভাইজার রাহুল কালে, ল' এনফোর্সমেন্ট অ্যাটাচে মিশেল ডব্লিউ হিন্টজ, পলিটিক্যাল মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স অফিসার জশ পোপ, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিজিওনাল সিকিউরিটি অফিসার স্টিফেন কোভাক্স এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

reporter