
ছবি: ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণায় আবারও বড়সড় ধাক্কা খেল বিশ্ব অর্থনীতি। ঘোষণার পরদিনই বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ ধনী ব্যক্তি সম্মিলিতভাবে হারিয়েছেন ২০৮ বিলিয়ন ডলার—বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৫ লাখ কোটি টাকার সমান। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, এটি ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ একদিনের সম্পদ পতন এবং কোভিড-১৯ মহামারির পর সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতির ঘটনা।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের এই অর্থনৈতিক ধস সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে মার্কিন বিলিয়নিয়ারদের ওপর। বিশ্বের শীর্ষ ১০ ক্ষতিগ্রস্ত ধনীর মধ্যে নয়জনই যুক্তরাষ্ট্রের। গড় হিসেবে ধনীদের সম্পদ ৩.৩ শতাংশ কমেছে। সূচকে থাকা অর্ধেকের বেশি ব্যক্তির সম্পদের পতন ঘটেছে।
এই বিপর্যয়ের অন্যতম শিকার হয়েছেন ফেসবুক ও মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তার একদিনেই ১৭.৯ বিলিয়ন ডলার লোকসান হয়েছে, যা তার মোট সম্পদের প্রায় ৯ শতাংশ। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসও ক্ষতির শিকার হয়েছেন ১৫.৯ বিলিয়ন ডলারের মতো। ফরাসি ধনকুবের ও এলভিএমএইচ প্রধান বার্নার্ড আরনোর সম্পদ কমেছে ৬ বিলিয়ন ডলার।
এছাড়াও, শপিফাইয়ের প্রধান নির্বাহী টোবি লুটকে এবং ব্যবহারিক গাড়ি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ড্রাইভটাইমের আর্নেস্ট গার্সিয়া হারিয়েছেন যথাক্রমে ১.৪ থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্র এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাননি। টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান একদিনেই হারিয়েছেন ১১ বিলিয়ন ডলার।
অন্যান্য মার্কিন ধনীদের মধ্যেও বড় অঙ্কের লোকসান দেখা গেছে। ডেল টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল হারিয়েছেন ৯.৫৩ বিলিয়ন ডলার, ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন ৮.১ বিলিয়ন ডলার, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং ৭.৩৬ বিলিয়ন ডলার, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ৪.৭৯ বিলিয়ন এবং সের্গেই ব্রিন ৪.৪৬ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্রোকারসের প্রতিষ্ঠাতা টমাস পিটারফির সম্পদ কমেছে ৪.০৬ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ঘোষণাটি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় শেয়ারবাজারে বড় ধস নামে, যার প্রভাব পড়ে শীর্ষ ধনীদের সম্পদে।
ব্লুমবার্গ ১৩ বছর ধরে শীর্ষ ধনীদের সম্পদের হিসাব রাখছে। তার ইতিহাসে এই ২০৮ বিলিয়ন ডলারের একদিনের ক্ষতি চতুর্থ বৃহত্তম এবং মহামারির পর থেকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে থাকা রাজনৈতিক ঘোষণাগুলো এখন শুধু সরকারি নীতিতে সীমাবদ্ধ নেই; তা পরিণত হয়েছে সম্পদের ওঠানামার প্রধান চালিকাশ্রুতিতে। ট্রাম্পের এই ঘোষণাও তার প্রমাণ রাখল — মাত্র একটি ঘোষণাতেই বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের শত শত বিলিয়ন ডলার যেন বাতাসে মিলিয়ে গেল।
repoter