ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪০ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

শতভাগ স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি: প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস

reporter

প্রকাশিত: ০৮:৫০:১১অপরাহ্ন , ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০৮:৫০:১১অপরাহ্ন , ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আজ শনিবার (ফেব্রুয়ারি ১৫) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী নির্বাচনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, এ নির্বাচনের পর কেউ আর সন্দেহ প্রকাশ করবে না বা ভাববে না যে কাউকে পরিকল্পিতভাবে বিজয়ী করা হয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নতুন বাংলাদেশ মানেই নতুন ধাঁচের নির্বাচন। এই নির্বাচন এমনভাবে পরিচালিত হবে, যাতে ফলাফল নিয়ে কারও মনে কোনো সংশয় তৈরি না হয়। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা এমনভাবে প্রণয়ন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এটিকে নিজের সুবিধামতো পরিবর্তন করতে না পারে। এ জন্যই একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী আইনের কাঠামো একবার নির্ধারণ হয়ে গেলে সেটি বহাল থাকবে এবং এর ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের সব নির্বাচন পরিচালিত হবে। এতে ভোটের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। অনেকেই মনে করেন, কোনো গোপন শক্তি বিজয়ীকে নির্ধারণ করছে। কিন্তু এই সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটানো হবে। তিনি বলেন, "আমাদের মানসিকতায় গেঁথে গেছে যে, নির্বাচন মানেই কলকাঠি নেড়ে ফলাফল নির্ধারণ করা। কিন্তু আমরা এখন এমন এক নিয়ম প্রতিষ্ঠা করব, যেখানে কোনো পক্ষই এ ধরনের সুযোগ পাবে না। দেশ নিয়মতান্ত্রিক পথে চলবে, সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকবে না।"

গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, "আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব যাতে তাদের আত্মত্যাগকে ব্যর্থ না করা হয়। তাদের স্বপ্নকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে চাই, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের অবদান মনে রাখে।" তিনি আরও বলেন, "যদি তারা আত্মত্যাগ না করতেন, তাহলে হয়তো আমাদের অনেক প্রশ্ন থাকলেও তার উত্তর খোঁজার কোনো সুযোগ থাকত না। বহু বছর ধরে আমাদের মনে প্রশ্ন ছিল, কিন্তু আমরা তার উত্তর পাইনি। অসংখ্য ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ফলে আমরা সে সুযোগ পেয়েছি।"

দেশে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা বিভক্ত, এমন মন্তব্য করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "যদি আমরা প্রথম অধ্যায় সফলভাবে শেষ করতে পারি, তাহলে দ্বিতীয় অধ্যায়ও একইভাবে পার হওয়া সম্ভব। আর তৃতীয় অধ্যায় নিয়ে কোনো সংশয় থাকবে না।" তিনি বলেন, "আমাদের সবার মাঝে এ ব্যাপারে স্পষ্টতা থাকা উচিত যে, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই এবং সে লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করব।"

তিনি আরও বলেন, "এটি একটি বিশাল শক্তি। প্রথম অধ্যায় যেভাবে কেটেছে, তাতে বোঝা যায়, আমাদের পথে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা হলেও আমরা সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতেও আমরা এই ঐক্য বজায় রাখব এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করব।"

reporter