ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪০ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

সন্ত্রাসী হামলার পর রাতারাতি ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত পহেলগাম

reporter

প্রকাশিত: ০৩:০৮:৫০অপরাহ্ন , ২৪ এপ্রিল ২০২৫

আপডেট: ০৩:০৮:৫০অপরাহ্ন , ২৪ এপ্রিল ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পহেলগাম, যাকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে ডাকা হয়, তা এক সন্ত্রাসী হামলার পর হঠাৎ করেই রূপ নিয়েছে এক ভুতুড়ে নগরীতে। বছরের এই সময়টায় যখন উপত্যকাজুড়ে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকার কথা, তখন এক নির্মম হামলার পর সবকিছু থমকে গেছে।

গত মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় এক সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ২৬ জন পর্যটক। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর পহেলগামের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং অলিগলিতে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি।

পাহাড়ঘেরা পহেলগামের রাজপথগুলো এখন ফাঁকা। সেনাবাহিনীর বিপুল উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। ভারী অস্ত্র নিয়ে মোতায়েন রয়েছে সেনারা। এলাকাবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে—কার কখন কোথায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটক করা হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

হামলার পর পর্যটকরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে শুরু করেন। অনেকে পুলিশের সহায়তায় পহেলগাম থেকে বের হয়ে যান। বুধবার সকাল পর্যন্ত বেশিরভাগ পর্যটক জম্মুর দিকে রওনা দিয়েছেন। কেউ কেউ থাকার চেষ্টা করলেও তারাও সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পহেলগামের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ওমর মাজিদ জানান, আগের দিন তার রেস্তোরাঁয় শত শত ক্রেতা এসেছিলেন। কিন্তু হামলার পর পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, দোকানের শাটার পর্যন্ত তুলতে পারছেন না। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ঘটনার দায় স্বীকার করেছে কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। তারা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক বার্তায় জানিয়েছে, নিহতরা শুধু সাধারণ পর্যটক ছিলেন না, বরং তারা নাকি ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাদের হয়ে কাজ করছিলেন।

ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কাশ্মীরে পৌঁছেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে গিয়েই তিনি ঘোষণা দেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কাশ্মীরের পহেলগাম, যেটি বছরের এই সময়ে ঘুরতে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে, সেই স্থান এখন প্রায় জনশূন্য। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং সামগ্রিকভাবে কাশ্মীরের পর্যটন খাত একটি নতুন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই হামলা কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও পর্যটন নির্ভর অর্থনীতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী, আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দ্রুত ফিরে যাওয়া পর্যটকদের চোখে এখন পহেলগাম যেন শুধুই একটি স্মৃতি।

reporter