
ছবি: ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. রাকিব পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। ঢাকা কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হিসেবেও পরিচিত।
গত ২৬ জানুয়ারি রাতে নীলক্ষেত এলাকায় সংঘর্ষের শিকার হন তিনি। এরপর তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেবিন ব্লকে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন এবং তার দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাকিব অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের ঘটনা পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা হয়েছে, যার কারণে ঢাকা কলেজসহ অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হামলার পরিকল্পনা করেছেন এবং যারা সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।
রাকিব আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের অসদাচরণ সংঘর্ষের অন্যতম কারণ। তার আচরণের কারণেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এজন্য তিনি দাবি করেন, প্রো-ভিসিকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রাকিব বলেন, পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা হত্যার শামিল। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে থাকা কিছু উচ্চপদস্থ ব্যক্তি এবং প্রশাসনের নির্দিষ্ট কর্মকর্তারা এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা নিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে সকল শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের পড়াশোনায় যেন কোনো প্রকার সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
রাকিবের পঞ্চম দাবি ছিল সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি দ্রুত চূড়ান্ত করা। তিনি উল্লেখ করেন, সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছে, কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী একটি স্পষ্ট রূপরেখা প্রকাশ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রাকিব আরও বলেন, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি বারবার বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তারা নিয়মিত প্রশাসনিক অবহেলার শিকার হচ্ছেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের উদাসীনতাই দায়ী এবং সরকার যদি শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করে, তাহলে সামনে আরও বড় ধরনের আন্দোলন হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে রাকিবের সঙ্গে তার সহপাঠীরা এবং সাত কলেজের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই রাকিবের দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন এবং সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘর্ষের বিষয়ে এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
repoter