ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪২ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু, পর্যটকদের মাঝে স্বস্তি

reporter

প্রকাশিত: ১২:৫৪:০৯অপরাহ্ন , ০১ ডিসেম্বর ২০২৪

আপডেট: ১২:৫৪:০৯অপরাহ্ন , ০১ ডিসেম্বর ২০২৪

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে জাহাজ চলাচল আবার শুরু হয়েছে। রোববার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটি ঘাট থেকে ৭০০ যাত্রী নিয়ে বার আউলিয়া নামের একটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এই দীর্ঘ বিরতির পর আবার জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং সংশ্লিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক এবং জাহাজের পরিচালক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত বার আউলিয়া জাহাজটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এদিন প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারাও ছিলেন, যারা দ্বীপে তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন।

হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় পর্যটকদের স্বস্তি ফিরেছে এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি দেখা যাচ্ছে। জাহাজটি দুপুরে সেন্টমার্টিন পৌঁছানোর পর বিকেল ৫টায় কক্সবাজারের উদ্দেশে ফিরে আসবে।”

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এখন যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।

সেন্টমার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ কমিটির আহ্বায়ক এবং কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াছমিন চৌধুরী জানান, “প্রথম দিনে যাত্রী নিয়ে একটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। আমরা জাহাজ চলাচল এবং যাত্রীসেবার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো ধরনের অনিয়ম বা পর্যটক হয়রানি বরদাশত করা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান বজায় রাখতে আমাদের নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। জাহাজ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”

মৌসুমি জাহাজ চলাচলের নিয়ম

প্রতি বছর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন এবং টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। বাকি ছয় মাস সাগর উত্তাল থাকার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে।

এই বছরও একই নিয়মে অক্টোবর থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর কথা থাকলেও নানা জটিলতার কারণে তা বিলম্বিত হয়। অবশেষে ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হলো।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) থেকে আরও দুটি জাহাজ—কেয়ারী সিন্দাবাদ এবং অন্য একটি জাহাজ—নৌ-রুটে যোগ দেবে বলে জানা গেছে। ফলে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে।

পর্যটকদের প্রতিক্রিয়া

সেন্টমার্টিনে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা এই উদ্যোগে দারুণ খুশি। ঢাকার এক দম্পতি, যারা প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনে যাচ্ছেন, বলেন, “জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় আমরা খুব আনন্দিত। দীর্ঘদিন ধরে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও জাহাজ বন্ধ থাকার কারণে যেতে পারিনি। এবার সুন্দর আবহাওয়ায় ভ্রমণ উপভোগ করার আশা করছি।”

চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেক পর্যটক বলেন, “সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা। এখানে আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমরা জাহাজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতে এই রুটে আরও ভালো সেবা পাওয়া যাবে।”

পর্যটন খাতে নতুন আশার আলো

দীর্ঘ বিরতির পর জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় শুধু পর্যটকরা নয়, দ্বীপের স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও নতুন আশার আলো দেখছেন। সেন্টমার্টিনে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “জাহাজ বন্ধ থাকার কারণে আমাদের ব্যবসায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল। এখন পর্যটকরা আসতে শুরু করলে আমাদের আয়ের পথ খুলে যাবে।”

সেন্টমার্টিনে থাকা হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকরাও বলেন, “জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে, যা আমাদের ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য সেন্টমার্টিনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও জাহাজ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে সেবার মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। পর্যটকদের কাছ থেকেও সচেতনতা ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে, যেন সেন্টমার্টিন তার স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারে।

reporter