
ছবি: ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করে চলেছে। ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ ও ‘চোরাকারবারি’ এই দুই অভিযোগের ভিত্তিতে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর চালানো হচ্ছে নৃশংসতা। গুলি করে, পিটিয়ে এবং ধাওয়ার মাধ্যমে প্রাণ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তাদের।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ১১ বছরে বিএসএফ গুলি করে মেরেছে ২৮৯ জন বাংলাদেশিকে। এছাড়াও, ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সাত বছরে বিএসএফ পিটিয়ে হত্যা করেছে ২৮ জনকে। এ ছাড়াও ধাওয়ার মধ্যে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৬ জন বাংলাদেশি। আসকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের ধান কাটা, গরু চরানো, মাছ মারা এবং গৃহস্থালির কাজ করার মতো সাধারণ কাজ।
বিএসএফের হাতে সীমান্তের নাগরিকদের মৃত্যু যে কেবল হত্যাকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়, তা উঠে এসেছে আরও এক ভয়ঙ্কর সত্যের মাধ্যমে। গত ১১ বছরে বিএসএফ সীমান্ত এলাকা থেকে ধরে নিয়ে গেছে ৩১৯ জন বাংলাদেশিকে। কিন্তু তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও অজানা রয়ে গেছে। আসকের সর্বশেষ চার বছরের (২০২১-২০২৪) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধরে নিয়ে যাওয়া ১৭ জন বাংলাদেশির মধ্যে মাত্র সাতজন ফিরে এসেছেন। বাকি ১০ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তার কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্তের নিরাপত্তা এবং ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রেখা থাকার কারণে বিএসএফ এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে মাঝে মাঝেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে বিএসএফের এমন আচরণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের চূড়ান্ত উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নজরে এসেছে।
repoter