
ছবি: ছবি: সংগৃহীত
১১ দিন আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নয়তলা বিশিষ্ট এ ভবনের পুড়ে যাওয়া চারটি তলা ছাড়া বাকি পাঁচ তলায় আজ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের অফিস কার্যক্রম শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভবনটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পুড়ে যাওয়া ফ্লোরগুলোতে এখনও গণপূর্ত বিভাগের নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজ চলছে এবং সেই অংশে অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। দুইতলায় মেঝেতে ছাই ও কালো দাগ এখনও স্পষ্ট। ভবনটির লিফট এখনও চালু করা হয়নি, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে। পানি সরবরাহও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উপদেষ্টা ও সচিব ছাড়া অন্য কারও গাড়ি সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে আজ থেকে এ নিয়ম শিথিল করা হয়েছে, এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর গাড়িকেও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর, সরকারি ছুটির দিনগত রাতে, সচিবালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে। এতে ৭ নম্বর ভবনের চারটি তলা সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লোরগুলোতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অফিস ছিল।
এই অগ্নিকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনায় ভবনটির প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত করা হয়। তদন্তের স্বার্থে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাই ভবনে প্রবেশ করতে পারতেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আগুনের ভয়াবহতার চিহ্ন এখনও স্পষ্ট।
কর্মকর্তারা জানান, পুড়ে যাওয়া ফ্লোরগুলো পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করতে সময় লাগবে। কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে।
সচিবালয়ের অন্যান্য ভবনের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও এ অগ্নিকাণ্ড স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা।
repoter