
ছবি: ছবি: সংগৃহীত
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাটডাউনে বন্ধ রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগে ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষার্থীরা সোমবার থেকে শাটডাউনের ঘোষণা দেয়। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় দাবিগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না এলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় টানা শাটডাউনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে।
এর আগে, সোমবার রাতে মন্ত্রণালয় তাদের দাবি মেনে নেবে বলে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলে শিক্ষার্থীরা অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। তবে, আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত শাটডাউন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এ কে এম রাকিব।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, শাটডাউনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে কোনো বিভাগে ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। শহিদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে শাটডাউন লেখা ব্যানার টাঙানো ছিল। পকেট গেট খোলা থাকলেও দপ্তরগুলো সীমিত কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের কম্পিউটার কাম অপারেটর হাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকলেও দপ্তরের কার্যক্রম সীমিতভাবে চলছে। বিভিন্ন দপ্তরের চিঠি চালাচালি ও প্রয়োজনীয় সেবাদান অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মনসুর আলম জানান, শাটডাউনের মধ্যেও নিয়মিত রুটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস শিক্ষার্থীদের আনতে গিয়েছে। তবে বিকেলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাস ক্যাম্পাস ছাড়বে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। যদি কোনো রুটে যাওয়ার মতো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়, তবে বাস ছাড়বে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, শাটডাউনের মধ্যেও প্রশাসনিক কাজ অব্যাহত রয়েছে। আবেদনকারীরা সময় অনুযায়ী তাদের সেবা পাচ্ছেন। সার্টিফিকেট ও মার্কশিটের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে: সেনাবাহিনীর কাছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের দায়িত্ব হস্তান্তরের চুক্তি স্বাক্ষর, পুরান ঢাকার বাণী ভবন এবং ড. হাবিবুর রহমান হলের স্টিল বেইজড ভবনের কাজ দ্রুত শুরু ও শেষ করা, এবং আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় শিক্ষার্থীরা অনশন শুরু করে। এসময় অনশনে অসুস্থ হয়ে প্রায় ১৪ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উপাচার্যের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেনি। পরে, সোমবার বিকেলে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সচিবালয়ে অবস্থান নেয়া হয়।
repoter