
ছবি: ছবি: সংগৃহীত
জুলাই বিপ্লবের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৪ হাজার ৩৫১টি অস্ত্র ও ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩৯ রাউন্ড গোলাবারুদ। তবে এখনও ১ হাজার ৩৯৯টি অস্ত্র ও ২ লাখ ৬২ হাজার ১৭০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র চরমপন্থী, সন্ত্রাসী, জেল পলাতক আসামি ও কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লুট হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এসএমজি, এলএমজি, রাইফেল, পিস্তল, শটগান, গ্যাসগানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অস্ত্র সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের হাতে পৌঁছানোর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, লুট হওয়া অস্ত্রের বড় একটি অংশ এখন কিশোর গ্যাংয়ের হাতে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে তারা ডাকাতি, খুনসহ নানা ধরনের অপরাধ করছে। গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে গোলাগুলি করে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, গত নভেম্বরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে উদ্ধার করা শাহিদা ইসলামের গুলিবিদ্ধ লাশের ঘটনায়ও পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা গেছে।
র্যাব সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত র্যাব ৪৮৪টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র ২২৮টি। এছাড়া, ৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অস্ত্র উদ্ধার-সংক্রান্ত মামলায়। তবে এখনও ৭০০ পলাতক আসামি রয়েছেন, যারা জেল থেকে পালিয়ে গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, "লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকেই যাবে। পুলিশের দেওয়া হিসাবও পরিপূর্ণ নয়। এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকলে তারা যেকোনো সময় তা ব্যবহার করতে পারে।"
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকারী ও অস্ত্র ব্যবসায়ীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা থেকে লুট করা অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া, গত বছরের ২৯ আগস্ট বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় আনিছ নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যেখানে ব্যবহৃত গুলির খোসায় পুলিশ লেখা ছিল।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া জিয়াউর রহমান নামের এক ডাকাত সরদার জানায়, তিনি চট্টগ্রামে পুলিশের স্থাপনা থেকে পিস্তল লুট করে আবার অপরাধ জগতে ফিরে এসেছেন। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ ১৪টি মামলা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা না হলে অপরাধের মাত্রা আরও বাড়বে। পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে।
repoter