ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

লেনদেন বাড়ার সঙ্গে বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা

reporter

প্রকাশিত: ১০:৩১:৫৩অপরাহ্ন , ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ১০:৩১:৫৩অপরাহ্ন , ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সূচকের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। আলোচ্য সময়ে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বাজার মূলধনও বেড়েছে।

সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৭৩৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সপ্তাহ শেষে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৯১ কোটি ৫৮ লাখ টাকায়। এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ হাজার ৪৫১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা ০ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সামান্য ১ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ০২ শতাংশ কমেছে। তবে ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ৭ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ৯ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৩৫১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বেশি। এতে লেনদেনের পরিমাণ ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৭০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের দৈনিক গড় ৪২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৯৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ২০৩টির কমেছে এবং ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ফলে বাজার মূলধন ও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে সূচকের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে বিনিয়োগকারীরা এখনো কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে ৮ কোম্পানি

ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল, শাইনপুকুর সিরামিকস, গোল্ডেন হার্ভেস্ট, ইনটেক অনলাইন, ফু-ওয়াং ফুড, ফার কেমিক্যাল, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, গোল্ডেন সন, সোনারগাঁ টেক্সটাইল ও আল্-আরাফা ব্যাংক লিমিটেড। এর মধ্যে ৮টি কোম্পানির শেয়ার ‘বি’ গ্রুপের।

এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলের দর বেড়েছে ৫৭.১৪ শতাংশ, শাইনপুকুর সিরামিকসের ২৭.৮৩ শতাংশ, গোল্ডেন হার্ভেস্টের ১৮.৫৮ শতাংশ, ইনটেক অনলাইনের ১৫.৭১ শতাংশ, ফু-ওয়াং ফুডের ১৪.৯৩ শতাংশ, ফার কেমিক্যালের ১৪.৬১ শতাংশ, গোল্ডেন সনের ১১.৬৩ শতাংশ এবং সোনারগাঁ টেক্সটাইলের ১১.১১ শতাংশ।

এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলের বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি মুনাফা পেয়েছেন। কোম্পানিটির শেয়ার সপ্তাহজুড়ে সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে কোম্পানিটির উদ্বোধনী দর ছিল ৯ টাকা ৮০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৪০ পয়সায়।

শাইনপুকুর সিরামিকস ও গোল্ডেন হার্ভেস্টের শেয়ার সপ্তাহের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে ৩ কর্মদিবস সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়ে হল্টেড হয়েছে।

দরপতনের শীর্ষে ৭ কোম্পানি

বিদায়ী সপ্তাহে দরপতনের তালিকায় উঠে এসেছে মিডল্যান্ড ব্যাংক, তুংহাই নিটিং, নূরানী ডাইং, আর এ কে সিরামিকস, অ্যাপেলো ইস্পাত, ভিএফএস থ্রেড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, তাল্লু স্পিনিং, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার ও পিপলস লিজিং লিমিটেড। এর মধ্যে ৭টি কোম্পানির শেয়ার ‘জেড’ গ্রুপের।

তুংহাই নিটিংয়ের শেয়ারদর সপ্তাহজুড়ে প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত। জানুয়ারি মাসজুড়ে এসব কোম্পানির শেয়ার ভালো মুনাফা দিলেও বিদায়ী সপ্তাহে দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে।

যেসব বিনিয়োগকারী গত সপ্তাহের শুরুতে বা মাঝামাঝি সময়ে এসব কোম্পানির শেয়ার কিনেছিলেন, তারা এখন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে দুই কোম্পানি

বিদায়ী সপ্তাহে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রবি আজিয়াটা ও সামিট পাওয়ার লিমিটেড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

রবি আজিয়াটা ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৭০২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৩ সালে রবির মুনাফা ছিল ৩২০ কোটি টাকা।

সর্বশেষ বছরে রবির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৬১ পয়সা। বছরের ব্যবধানে ইপিএস বেড়েছে ১১৯ শতাংশ। আগামী ২১ এপ্রিল রবির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে, যার জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ মার্চ।

সামিট পাওয়ার ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির সর্বশেষ বছরের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩ টাকা ১৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২ টাকা ৭ পয়সা। কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, যার জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ মার্চ।

reporter