ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন: র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

reporter

প্রকাশিত: ০৯:১৪:০২অপরাহ্ন , ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০৯:১৪:০২অপরাহ্ন , ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নয় এমন কর্মীদের নিজ নিজ ইউনিটে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের ফলস্বরূপ প্রস্তুত করা হয়।

জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন (ওএইচসিএইচআর) জানায়, বাংলাদেশের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং মানদণ্ড অনুযায়ী সংশোধন প্রয়োজন। এসব সংশোধনির মধ্যে বলপ্রয়োগ, জনসমাগম ছত্রভঙ্গ করতে ধাতব গোলাবারুদ বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ওএইচসিএইচআর আরও জানায়, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শর্টগানের জন্য ধাতব গোলাবারুদ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কম প্রাণঘাতী কৌশল এবং সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।

ওএইচসিএইচআর এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশকে গণ-অভিযোগ ও গণগ্রেপ্তারের অনুশীলন বন্ধ করতে হবে এবং বিশেষ করে সন্দেহভাজন তালিকার ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের ঘটনা বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিবেদনটি আরও জানায়, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট এবং সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রতিবেদনে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিষেধ আইন বাস্তবায়ন করার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। আইনটি প্রয়োগ করার জন্য পুলিশকে বাধ্যতামূলক আদেশ জারি করতে হবে এবং একটি স্বাধীন নির্যাতন প্রতিরোধ ও আটক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালু করতে হবে। এর পাশাপাশি, পুলিশ সদস্যদের জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশ বাহিনীর মধ্যে দুর্নীতি দূরীকরণ এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি জাতীয় পুলিশ কমিশন গঠন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই কমিশনটি পুলিশের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং অপসারণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও যোগ্যতাভিত্তিক করার জন্য একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। কমিশনটি পুলিশের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গুরুতর অসদাচরণের বিষয়ে কার্যকর তদন্ত পরিচালনা করবে এবং মামলাগুলো বিচারের জন্য পাঠাবে।

জাতিসংঘের সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, পুলিশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে। এই কমিশনটি সুশীল সমাজসহ স্বাধীন সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে এবং এটি পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে।

বিশ্ব সংস্থাটি পুলিশ, গোয়েন্দা বাহিনী, বিজিবি, আনসার/ভিডিপি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলে তাদের পদ থেকে অপসারণ করার জন্য একটি ব্যাপকভিত্তিক স্বাধীন যাচাই ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুপারিশ করেছে। এই যাচাই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের জন্য বাংলাদেশী কর্মীদের নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত।

এছাড়া, জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে বিশেষ পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কাজে নিযুক্ত করার জন্য একটি অধ্যাদেশ পাস করার পরামর্শ দিয়েছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শুধু সীমিত সময়ের জন্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাজে নিযুক্ত করা হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের সরকারকে একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি এবং শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান রেখে মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রোটোকলগুলির প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। এর পাশাপাশি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য যারা র‌্যাব বা বাংলাদেশি পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তাদের শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য মনোনীত করা যাবে না।

এতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবিলায় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এক শক্তিশালী পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

reporter