ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

গ্যাস সংযোগ পেতে আওয়ামী আমলে ২০ কোটি টাকা ঘুষ: সেখ বশির উদ্দিনের অভিযোগ

reporter

প্রকাশিত: ১১:৩১:২৬অপরাহ্ন , ২৩ নভেম্বর ২০২৪

আপডেট: ১১:৩১:২৬অপরাহ্ন , ২৩ নভেম্বর ২০২৪

বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ছবি: বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গ্যাস সংযোগের জন্য ২০ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নিজের অর্থে ৪০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করার পাশাপাশি রাস্তা কাটার অনুমতির জন্য তাকে ২০ কোটি টাকা দিতে হয়েছিল। এর বাইরে আরও নানা অজুহাতে তাকে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট নিয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গ্যাস সংযোগ পেতে ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সেখ বশির উদ্দিন জানান, শিল্প কারখানায় বিনিয়োগের পরও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ার কারণে তাকে ব্যক্তিগতভাবে সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর কাছে যেতে হয়েছিল। তিনি বলেন, "সে সময় প্রতিমন্ত্রীর বাসার সামনে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। প্রতিমন্ত্রী আমাকে বিভিন্ন উপদেশ দেন, যা আমার জ্ঞানের সঙ্গে মেলাতে পারিনি। তবুও সেসব শুনতে বাধ্য হয়েছিলাম।"

তিনি আরও বলেন, "গ্যাস সংযোগ পাওয়া তখন ব্যাংকের নিবন্ধন পাওয়ার মতো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে ন্যূনতম মর্যাদা আশা করলেও তা পাইনি। বরং নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে 'জ্বি স্যার' বলেই দিন পার করতে হয়েছে।"

জ্বালানি খাতের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সেখ বশির উদ্দিন বলেন, "জ্বালানি খাত দুর্নীতির অন্যতম স্তম্ভ ছিল। অতীতে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য হয়েছেন।"

তিনি আরও বলেন, "বিগত সময় দেশের অর্থনৈতিক খাত এমন এক বিচারহীন ও স্বজনতোষী পরিবেশে ছিল যেখানে আমাদের সন্তানদেরও নিরাপত্তার অভাব ছিল। নিজেদের কথা বলতে গিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হতো। এমনকি এমন কিছু বিষয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি, যা আমার নিজের জ্ঞান ও আত্মমর্যাদাকে আঘাত করেছে।"

সেখ বশির উদ্দিন জানান, জ্বালানি খাতের দুর্বলতা কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং এটি পূর্বপরিকল্পিত। তিনি বলেন, "জ্বালানি খাতের বর্তমান দুরবস্থা সৃষ্টির পেছনে সুপরিকল্পিত একটি চক্র কাজ করেছে। তাদের আর্থিক অপরাধ ও অনিয়ম জেনে মাঝে মাঝে মনে হয়েছে, এদের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে দেখতে হবে, তারা এতটা অপরাধপ্রবণ কীভাবে হতে পারে।"

সেখ বশির উদ্দিন বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে না এবং সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, "এখন আপনাদের যথাযথ মর্যাদার পরিবেশ রয়েছে। অতীতে অনেক টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে, এখন আর তা করার প্রয়োজন নেই। নিজেরা নিজেদের কাজে বিনিয়োগ করুন।"

তিনি আরও বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন। সরকার সবকিছু একা করে দিতে পারবে না, তাই আপনাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চান সেখ বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, "বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে আমরা যৌথভাবে কাজ করতে পারব বলে আশা করছি। তবে ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।"

বাণিজ্য উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিগত সরকারের সময়ে জ্বালানি খাতের দুর্নীতি এবং ব্যবসায়ীদের প্রতি অশ্রদ্ধা দেশের শিল্প খাতের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে পারে।

reporter