ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪২ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

গণপিটুনিতে দ্বিগুণ মৃত্যু, মানবাধিকার লঙ্ঘনে উদ্বেগজনক চিত্র

reporter

প্রকাশিত: ০৮:৪৬:৫৯অপরাহ্ন , ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

আপডেট: ০৮:৪৬:৫৯অপরাহ্ন , ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

প্রতীকী ছবি

ছবি: প্রতীকী ছবি

আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে গণপিটুনিতে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। বিদায়ী বছরে এ ধরনের ঘটনায় ১২৮ জন নিহত হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। আসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব জাস্টিসের নামে মানুষ হত্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগেও গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ৫১ জন। কিন্তু ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ১২৮-এ দাঁড়িয়েছে। এতে দেখা যায়, সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু-কিশোর। নিহতদের মধ্যে ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন।

আসকের তথ্য অনুযায়ী, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিছুটা কমে এলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০২৪ সালে ২১ জনের বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পুলিশ হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনে ৬ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ১৪৭টি ঘটেছে। হামলায় ৪০৮টি বাড়িঘর, ১১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ৯২টি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩ জন এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ১ জন নিহত হয়েছেন।

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনায়ও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪০১ নারী, যার মধ্যে ৩৪ জন ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে ২৩৪ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন কারণে নিহত হয়েছে ৫৭৪ শিশু।

এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চল ও সমতলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনা বিদায়ী বছরেও অব্যাহত ছিল। বান্দরবানের লামা উপজেলায় ১৭টি ত্রিপুরা পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পাহাড়ি-বাঙালির সংঘর্ষে ৪ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হন। এছাড়া রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৭০টি পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সহিংসতায় ৮৫৮ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন। আসক বলছে, দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।

reporter