
ছবি: ছবি: সংগৃহীত
একুশে ফেব্রুয়ারি, ভাষা শহীদদের স্মরণে অবনত শ্রদ্ধার দিন। এই দিনটিকে ঘিরেই প্রাণের মেলা, অমর একুশে বইমেলা যেন আরও বেশি বর্ণিল হয়ে ওঠে। আর মাত্র একদিন পরেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন, এরপর তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামবে, সেই জনস্রোত এসে মিলবে বইমেলায়। প্রকাশকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই ঢেউয়ের জন্য, কারণ এই দিনেই মেলায় সবচেয়ে বেশি পাঠক ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, ২১ ফেব্রুয়ারিই বইমেলায় সবচেয়ে বেশি বই বিক্রি হয়ে থাকে। এই বছরও একই প্রত্যাশা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা। তারা মনে করছেন, দিনটি শুক্রবার হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় আরও বেশি মানুষ বইমেলায় আসবে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করে। মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল ভাষা সৈনিকেরা। সেই আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই দিনটির স্মরণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস পালিত হয়।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকেই খুলে দেওয়া হবে বইমেলার প্রবেশদ্বার। আয়োজকরা মনে করছেন, বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।
মেলার ১৯তম দিনে বিক্রেতা ও প্রকাশকরা জানান, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে প্রতিবছরই বইমেলায় মানুষের ঢল নামে। প্রকাশনীগুলোর স্টলে পাঠকের উপচে পড়া ভিড় থাকে। শিশুপ্রহর শুরু হবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত, আর সারা দিনজুড়েই মেলায় থাকবে বইপ্রেমীদের মিলনমেলা।
এক প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘‘গত বছর এই দিনটিতে অসংখ্য মানুষ বইমেলায় এসেছিলেন। আমরা প্রচুর বই বিক্রি করেছিলাম। এবারও সেই আশা নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’’
আরেক বিক্রয়কর্মীর বক্তব্য, ‘‘এদিন সকাল থেকে কাজ করতে হয়, যা কিছুটা কষ্টকর হলেও বইপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস দেখে সেই কষ্ট ভুলে যাই। আশা করছি, এবারের বিক্রি অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।’’
বুধবারের মেলায় নতুন বই এসেছে ৭০টি। বিকেলে বইমেলার মূলমঞ্চে ‘শিশুসাহিত্যের মহীরুহ রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জুলফিকার শাহাদাৎ, আলোচনায় অংশ নেন শাহাবুদ্দীন নাগরী, আর সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মাহমুদউল্লাহ, কাজল রশীদ শাহীন এবং তুহিন খান।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মজিদ মাহমুদ, কবি কামরুজ্জামান এবং কবি শফিকুল ইসলাম। পাশাপাশি সৈয়দা শামছি আরা সায়েকার পরিচালনায় ‘নবরস’ এবং জহির আলীমের পরিচালনায় ‘আবদুল আলীম ফাউন্ডেশন’ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।
repoter