ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪২ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর অবস্থান

reporter

প্রকাশিত: ০৮:৩০:২৪অপরাহ্ন , ০২ জানুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০৮:৩০:২৪অপরাহ্ন , ০২ জানুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও তার স্বামী কবির হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন আজ বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মহাপরিচালক জানান, সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও তার স্বামী, যিনি এমএস প্রমোশনাল নামক একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার স্বত্বাধিকারী, তাদের ব্যাংক হিসাবে ১৩৪ কোটি টাকার লেনদেন এবং বর্তমানে ১৪ কোটি টাকার স্থিতি রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দেশজুড়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চালানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি। শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নির্মিত ভাস্কর্য ও ম্যুরাল প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকা অপচয় এবং তহবিল তছরুপের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হচ্ছে।

দুদকের মহাপরিচালক বলেন, মুজিব কিল্লা নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পে পরিচালন ব্যয়ের অস্বচ্ছতা, অতিরিক্ত বিল প্রদান এবং গভীর নলকূপের অপ্রতুল কার্যকারিতার অভিযোগগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক, ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্তের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। দেশজুড়ে মুজিব কিল্লা প্রকল্পের তহবিল ব্যবহারে অসঙ্গতি, বিলের অতিরিক্ত খরচ এবং অকার্যকর অবকাঠামো নির্মাণের ফলে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

মুজিব কিল্লা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত গভীর নলকূপের বেশিরভাগই অকার্যকর বলে অভিযোগ রয়েছে। নলকূপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নলকূপ বিকল অবস্থায় রয়েছে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত বিল প্রদানের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের বিষয়েও সংশ্লিষ্টরা তদন্তের আওতায় রয়েছেন।

মহাপরিচালক আরও জানান, দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা সবধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্টদের সম্পদ বিবরণী চাওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে বলে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও তার স্বামীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

দুদকের কঠোর অবস্থানের কারণে এ ধরনের তদন্ত দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও দুদক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

reporter