ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

ঢাকার কলেজপাড়ায় উত্তেজনা: ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে বিক্ষোভকারীদের হামলা-ভাঙচুর

reporter

প্রকাশিত: ০১:২৮:২৪অপরাহ্ন , ২৫ নভেম্বর ২০২৪

আপডেট: ০১:২৮:২৪অপরাহ্ন , ২৫ নভেম্বর ২০২৪

মাহবুবুর রহমার মোল্লা কলেজে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা - ছবি - ইন্টারনেট

ছবি: মাহবুবুর রহমার মোল্লা কলেজে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা - ছবি - ইন্টারনেট

ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ (ডিএমআরসি)-এ কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সোমবার হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা কলেজটির বিভিন্ন কক্ষ ও মালামালে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি লুটপাটেও জড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত রোববার ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটে চিকিৎসকের গাফিলতিতে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে প্রতিবাদে নামেন কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা।

রোববারের সংঘর্ষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ঘেরাও করে। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণেই মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা।

হাসপাতালের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজেও হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় এই দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা সোমবার সকালের মধ্যে দায়ীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়।

কিন্তু প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না দেখে ‘মেগা মানডে’ কর্মসূচির ডাক দেয় তারা।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে জড়ো হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সাড়ে ১১টার দিকে রায়সাহেব বাজারের দিকে অগ্রসর হয়।

এদিকে সাত কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও একই সময় জড়ো হতে থাকে। পরে তারা দল বেঁধে ডিএমআরসি’র দিকে এগিয়ে যায়।

ডিএমআরসি ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর শিক্ষার্থীরা সেখানে হামলা চালায়। তারা ভবনের জানালা, দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কিছু মালপত্র লুট করে।

কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, রোববারের ঘটনায় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। পুলিশ কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

ডিএমআরসি-তে হামলার সময়ও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ঘটনার সময় আশেপাশে পুলিশ থাকলেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবারের এই সহিংসতায় ডিএমআরসি’র নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। অন্যদিকে রোববার সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজে পরীক্ষা চলাকালীন হামলা-ভাঙচুর হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছে।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষার সময় এমন হামলা হওয়া দুঃখজনক। আমরা সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারিনি। এটি শুধু হামলা নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা।”

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবি উপেক্ষা করায় আজ এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে হয়েছে।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশকে নষ্ট করছে। তাই সবপক্ষের সহনশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের জায়গাগুলো দ্রুত সমাধান করা এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

reporter