ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪১ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

ঢাবিতে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রতি ব্যঙ্গ, ডামি নির্বাচন আয়োজন

reporter

প্রকাশিত: ০৬:৩১:০৭অপরাহ্ন , ০৭ জানুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০৬:৩১:০৭অপরাহ্ন , ০৭ জানুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রতি ব্যঙ্গ প্রদর্শন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একটি ডামি নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস রাইটস ওয়াচ’ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আজ, মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের ঐতিহাসিক বটতলায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘যত ভোট তত নোট’ স্লোগান দিয়ে ভোট প্রদান করেন। ভোট প্রদানের আগে তাদের ‘নমুনা’ টাকা দেওয়া হয়। এই ডামি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটদান, মধ্য রাতের ভোট, ডামি নির্বাচন এবং অন্যান্য নানা স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। ভোট প্রদানের সময় তারা ‘দশটা হোন্ডা, দশটা গোন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা’, ‘দ্য ফ্যাসিস্ট আওয়ামী’, ‘আপনার বাবার ভোটও দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাবা তো মৃত’-এর মতো প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

এ নির্বাচনটির মূল আকর্ষণ ছিল এক মিনিটে কতগুলো ভোট দেওয়া সম্ভব, সেটি নিয়ে প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী কাফনের কাপড় পরিহিত অবস্থায় ভোট দিতে যান, এবং এর মাধ্যমে তারা প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এমনকি এক বছরের শিশুও এই ডামি নির্বাচনে ভোট দেয়। নির্বাচনে একজনকে নির্বাচন কমিশনার আবদুল আওয়াল ও কয়েকজনকে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দেখানো হয়।

আয়োজকরা জানান, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একটি ডামি নির্বাচন আয়োজন করে, যেখানে বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো ভোট বর্জন করলেও নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। তবে এতে ভোট প্রদানকারী সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। নির্বাচন কমিশন জানায়, প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন, যদিও অভিযোগ রয়েছে মৃত ও প্রবাসীদেরও ভোট প্রদান করা হয়েছে।

এই প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কাফনের কাপড় পরা এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিগত বছরগুলোতে আমি বেঁচে থাকতে ভোট দিতে পারিনি, কিন্তু আমার মৃত্যুর পরেও আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। আজ আমি কবর থেকে উঠে এসে ভোট দিতে এসেছি, যেন প্রতিবাদ জানাতে পারি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, “আওয়ামী লীগ বিগত ১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। নির্বাচনের নামে তামাশা চলছিল, যেখানে মৃত ব্যক্তি এবং বিদেশে থাকা মানুষও ভোট দিয়েছিল। আজকে আমরা ডামি ভোট প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছি, যেন এটি প্রতিবাদ হিসেবে প্রকাশ পায়।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে অনেকে প্রতীকী ভোট দিয়েছেন, আর আমরা তাদের ডামি টাকার নোট দিয়েছি। অনেক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ছিলেন, যারা গতবার ভোট দিতে পারেননি, তাদের আজকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”

এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ডামি নির্বাচনটি শুধু একটি হাস্যকর ঘটনা ছিল না, বরং এটি নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি গভীর প্রশ্ন তুলে ধরা একটি প্রতিবাদ ছিল।

reporter