ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

ডা. ফয়েজ হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

reporter

প্রকাশিত: ০৩:৫৮:৪৫অপরাহ্ন , ১৬ জানুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০৩:৫৮:৪৫অপরাহ্ন , ১৬ জানুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. ফয়েজ আহমেদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সামরিক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকীসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করেন নিহত ডা. ফয়েজ আহমেদের ছেলে ডা. হাসানুল বান্না। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে।

২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে লক্ষ্মীপুরে নিজ বাসায় ডা. ফয়েজ আহমেদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন একটি পূর্বপরিকল্পিত অভিযানে র‍্যাবের স্টিকারযুক্ত গাড়ি এবং বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসামিরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে উপস্থিত হন।

তারা প্রথমে লোহার গেট ভেঙে বাসায় প্রবেশ করেন। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি কক্ষের দরজা ভেঙে তল্লাশি চালান এবং ভাঙচুর করেন। এরপর ডা. ফয়েজ আহমেদকে দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে ধরে ছাদে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আগ্নেয়াস্ত্রের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আঘাত করার পর আসামি তারেক সাইদ মোহাম্মদ নিজের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভুক্তভোগীর হাঁটুর ওপর গুলি করেন, যা তার শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি করে এবং ব্যাপক রক্তপাত হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তিনতলার ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

ডা. ফয়েজ আহমেদের মরদেহ পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রেখে যাওয়া হয়। এই ঘটনা তৎকালীন সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চেয়ে আজকের অভিযোগ দাখিল করা হয়।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধীদলীয় আন্দোলন দমনে হত্যা এবং গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথে হাঁটে বলে অভিযোগ উঠে। বিরোধীদল বিএনপি এবং জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছিল। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন দমন করতে গিয়ে ডা. ফয়েজ আহমেদ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

নিহত ডা. ফয়েজ আহমেদ লক্ষ্মীপুরে একজন মানবিক ডাক্তার এবং জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার পরিবার দাবি করে, তৎকালীন সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

অভিযোগপত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকী, র‌্যাবের তৎকালীন এডিজি মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, এবং র‌্যাব-১১ এর সিইও তারেক সাইদ মোহাম্মদসহ ৪১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা অভিযোগে ঘটনাটির যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

reporter