ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পর ডেঙ্গুতে মৃত্যুহারে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

reporter

প্রকাশিত: ১২:১৬:৪০অপরাহ্ন , ১৩ নভেম্বর ২০২৪

আপডেট: ১২:১৬:৪০অপরাহ্ন , ১৩ নভেম্বর ২০২৪

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ ছাড়িয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের (ইসিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, এই সংক্রমণের বেশিরভাগই ঘটেছে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। ডেঙ্গু আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল, যেখানে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৯৫ লাখের বেশি সংক্রমণ, এবং দ্বিতীয় স্থানে আছে আর্জেন্টিনা। তবে, মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে দেশে ৭৪,৮০০ ডেঙ্গু সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৬৭ জনের। ব্রাজিলে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৫,৩০৩ জন এবং আর্জেন্টিনায় ৪০৮ জন, যার পরই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান।

ডব্লিউএইচও-এর অধীনস্থ প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পিএএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের মৃত্যুহার দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, আর্জেন্টিনায় দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং প্যারাগুয়েতে দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে দেশে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ বেড়ে চলছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ দাউদ আদনান বলেন, “অনেক রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষা করান না বা দেরিতে হাসপাতালে ভর্তি হন, যার ফলে জটিল অবস্থায় চিকিৎসা পেতে হয়। শকে চলে যাওয়া রোগীদের বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।” তিনি আরও বলেন, কিডনি রোগী, ডায়াবেটিস রোগী, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও বয়স্কদের জন্য ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, “বর্তমানে যেসব এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি, সেগুলো চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। হটস্পট নির্ধারণ করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।”

আইসিডিডিআরবি জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়ণ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে তুলছে এবং বাংলাদেশে জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মশা অভিযোজিত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, ডেঙ্গুর জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই, তবে উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসায় মৃত্যু কমানো সম্ভব। তবু জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, দুর্বল মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

reporter