
ছবি: ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের শিশু অধিকার রক্ষা সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, বিশ্বব্যাপী ১৫ কোটি শিশু জন্ম নিবন্ধনের আওতার বাইরে থাকায় কার্যত ‘অদৃশ্য’ হয়ে গেছে। এই শিশুদের অনিবন্ধিত অবস্থায় থাকার ফলে তারা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা এবং আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা তাদের রাষ্ট্রহীনতা ও বৈষম্যের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইউনিসেফ গত মঙ্গলবার তাদের নতুন প্রতিবেদনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৭৭ শতাংশের জন্ম নিবন্ধিত হয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় এই সংখ্যা দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও এখনো প্রায় ১৫ কোটি শিশু নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে। এছাড়া আরও প্রায় ৫ কোটি শিশু এমন আছে, যাদের জন্ম নিবন্ধন করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিক জন্মসনদ পায়নি।
জন্মসনদ একজন শিশুর পরিচয় এবং বয়স নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি জাতীয়তার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে এবং শিশুশ্রম, জোরপূর্বক বিয়ে অথবা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এছাড়া জন্ম নিবন্ধন শিশুদের জন্য ভ্যাকসিন, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেছেন, জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিশুরা অবিলম্বে আইনি স্বীকৃতি পায়, যা তাদের যেকোনো ধরণের শোষণ এবং ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার ভিত্তি তৈরি করে। তবে জন্ম নিবন্ধনে অগ্রগতি সত্ত্বেও অনেক শিশু এখনও গণনার বাইরে রয়ে গেছে। এর ফলে তারা কার্যত সরকার ও আইনের চোখে অদৃশ্য।
বিশ্বব্যাপী অনিবন্ধিত শিশুদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোতে বাস করে। এই অঞ্চলে মাত্র ৫১ শতাংশ অল্পবয়সী ছেলে-মেয়ের জন্ম নিবন্ধিত হয়েছে। ইউনিসেফ বলেছে, জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধনের যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবারের অজ্ঞতা, উচ্চ ব্যয়, রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাব, এবং কিছু ক্ষেত্রে লিঙ্গ, জাতিগত বা ধর্মীয় বৈষম্য।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনে এসব সমস্যার সমাধানে জোর দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের প্রতি এই বিষয়গুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, প্রতিটি শিশুকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে সঠিক নীতিমালা এবং কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে শিশুদের অধিকার রক্ষা করা যায় এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা যায়।
repoter