ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে দেশে কমান্ড সেন্টার গঠনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

reporter

প্রকাশিত: ০৮:১০:২০অপরাহ্ন , ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০৮:১০:২০অপরাহ্ন , ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ সোমবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন।

সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি, এবং বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত বাহিনীগুলোর মধ্যে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, ডিএমপি, কোস্ট গার্ড ও বিশেষ শাখার প্রধানরা ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য একটি কমান্ড সেন্টার বা সদরদপ্তর স্থাপন অপরিহার্য। এই সেন্টার থেকে দেশের প্রতিটি বাহিনী ও থানা নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠরা বিশাল অর্থ খরচ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তারা দেশব্যাপী মিথ্যা ও অপপ্রচার চালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের প্রতিরোধ করতে হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর প্রধানদের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হলে দেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে পুলিশের এই অভিযানের কোনো বিকল্প নেই। পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানান, জুলাই-আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য ১০টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান উপদেষ্টা পুলিশের প্রতি নির্দেশ দেন। তবে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের কাছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য অনুরোধ পাঠিয়েছে বলে পুলিশ মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে রাজধানীতে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি বলেন, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করার যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা যায়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সকলকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনীকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো করে কাজ করতে হবে, যাতে কেউ কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়।

reporter