ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৫ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

বিএনপি-জামায়াতের ঐক্যে ফাটল ধরাতে তৎপর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ

reporter

প্রকাশিত: ০৮:০৩:৩৯পূর্বাহ্ন, ১৮ নভেম্বর ২০২৪

আপডেট: ০৮:০৩:৩৯পূর্বাহ্ন, ১৮ নভেম্বর ২০২৪

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতা হারানোর পর রাজনীতিতে টিকে থাকতে বিএনপি-জামায়াত জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিন বিএনপিকে অবজ্ঞা করে আসা দলটি এখন বিএনপি এবং এর দীর্ঘমেয়াদী মিত্র জামায়াত ইসলামীকে আলাদা করতে সক্রিয়। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির ভারতপন্থী অংশকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে জামায়াতের সাথে এ ঐক্য বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলের নেতাদের বেশিরভাগই ভারতে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে কৌশলগত সমর্থন পেতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

১৯৯৯ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট গঠিত হওয়ার পর থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে তারা সরকার গঠন করেছিল। ১/১১-এর সময় থেকে গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন এক চিত্র তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, তারা এখন জামায়াতের সাথে বিএনপির সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

গত ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে চলে যান। শেখ হাসিনাসহ নেতাদের বেশিরভাগই ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সরকারের চাপের মধ্যে বিএনপি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা দিতে চেষ্টা করছে, যেখানে জামায়াত সরকারের কাছে তাদের সংস্কার কার্যক্রমের জন্য সময় চাচ্ছে। এই মতবিরোধ থেকেই বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দূরত্বের সূচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আওয়ামী লীগ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। তাদের কৌশলে বিএনপির ভারতপন্থী অংশকে বোঝানো হচ্ছে যে, দীর্ঘমেয়াদে জামায়াতের সাথে সম্পর্ক বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করবে। পাশাপাশি, তারা এ ধারণা ছড়াচ্ছে যে, বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগই তাদের একমাত্র আশ্রয় হতে পারে।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবদুল লতিফ মাসুম মনে করেন, বিএনপি-জামায়াতের ঐক্যের ভাঙন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি বলেন, "দুটি দলের আদর্শ আলাদা হলেও জাতীয় স্বার্থে তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো স্বৈরাচারী দলের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করা উচিত নয়।" একইভাবে, বিশ্লেষক ইকতেদার আহমেদও মন্তব্য করেন যে, "জাতীয় স্বার্থে সব বিভেদ ভুলে বিএনপি-জামায়াতকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আবারো ফিরে আসবে।"

আওয়ামী লীগের এই কৌশল মূলত তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতায় থাকতে না পারলে তারা জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের সাথে জোট গঠন করে ভবিষ্যতে নির্বাচনে ফেরার পরিকল্পনা করছে। তবে বিএনপি-জামায়াত ঐক্য ভাঙার চেষ্টা কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

reporter