ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৩ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়নে বিলম্ব, নীতিনির্ধারকরা অন্ধকারে

reporter

প্রকাশিত: ০১:৩৮:০২পূর্বাহ্ন, ০৬ মার্চ ২০২৫

আপডেট: ০১:৩৮:০২পূর্বাহ্ন, ০৬ মার্চ ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যাবলীর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়নি। এ কারণে সরকারের নীতিনির্ধারকরা স্থানীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত হচ্ছেন না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাধারণত নভেম্বর মাসে আগের অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন মন্ত্রিসভা বা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয় এবং অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে এবার এই প্রতিবেদন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগম জানান, প্রতিবেদনটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদিত হওয়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছিল। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রতিবেদন অনুমোদনের কথা থাকলেও তা হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ স্থগিত করে দেয়।

সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, "এবার বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরির পরিবেশ ছিল না। তবে এখন প্রতিবেদন প্রণয়ন করা উচিত। এটি বিভিন্ন দপ্তরের পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক।"

২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে সরকারের ২২টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রানীতি ব্যবস্থাপনা, প্রবাস আয় বৃদ্ধি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা বিতরণে স্বচ্ছতা এবং কৃষিজমি সুরক্ষা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসানের পরিমাণ এবং অডিট রিপোর্টে গুরুতর অনিয়মের তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বার্ষিক প্রতিবেদনে আগের সরকারের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের বর্ণনা থাকে। এতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সচিবদের ছবিও ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন প্রকাশে অনীহা থাকায় এটি প্রণয়নের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একজন সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "বার্ষিক প্রতিবেদন শুধু মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নয়। এটি সরকারের সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ, ঝুঁকি ও সম্ভাবনা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের অবগত করে। এ ধরনের প্রতিবেদন সরকারের সিদ্ধান্তগ্রহণকে আরও যথাযথ করে।"

বর্তমান পরিস্থিতিতে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়নের অভাবে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণে অসুবিধা দেখা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত প্রতিবেদন প্রণয়নের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে উঠবে সরকার।

reporter