ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

বাংলাদেশে ১৪ বছর ধরে এইচএমপিভি ভাইরাস, আতঙ্কের প্রয়োজন নেই

reporter

প্রকাশিত: ০১:৪৫:০৯অপরাহ্ন , ০৭ জানুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০১:৪৫:০৯অপরাহ্ন , ০৭ জানুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

চীন, জাপান এবং মালয়েশিয়ার পর এবার ভারতের বেঙ্গালুরুতে তিন ও আট মাস বয়সী দুই শিশুর দেহে এইচএমপিভি ভাইরাস (হিউম্যান মেটা নিউমো ভাইরাস) শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশেও এ নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। তবে বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

ডা. মুশতাক হোসেন, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা এবং সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বলেছেন, এই ভাইরাস নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশে ২০১১ ও ২০১২ সালেও এইচএমপিভি ভাইরাস পাওয়া গিয়েছিল। তখনও এটি তেমন কোনো গুরুতর প্রভাব ফেলেনি। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ভাইরাসটির ওপর নজর রাখছেন এবং এর সব ধরনের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাসটি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায় এবং সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত রোগের মতো আচরণ করে। বর্তমানে এই ভাইরাসের কোনো মারাত্মক মিউটেশন বা নতুন ধরন দেখা যায়নি। বাংলাদেশের গবেষণাগারগুলোতে এই ভাইরাস শনাক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে ভাইরাসটি নিয়ে আরও গবেষণা ও জিনোম সিকোয়েন্সিং করার মাধ্যমে এটি বদলে গেছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়ে আসছে। তবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। আইইডিসিআর জানিয়েছে, ভাইরাসটি নিয়ে বিশেষ কোনো জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, এই ভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চীন, যেখানে প্রথম এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তারাও কোনো পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করেনি।

তবে সতর্কতার জন্য যেকোনো শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাসের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবর্তী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুনশি জানিয়েছেন, ভাইরাসটি মূলত সুস্থ ও পূর্ণবয়স্ক মানুষদের আক্রান্ত করে না। যদি আক্রান্ত করেও, তবে গুরুতর জটিলতার সম্ভাবনা নেই। এটি সাধারণ রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাসের মতোই একটি ভাইরাস।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং যেকোনো ধরনের জ্বর বা শ্বাসতন্ত্রের অসুবিধা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে ভাইরাসটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

reporter