ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমে ভুয়া খবর: রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও প্রভাব

reporter

প্রকাশিত: ১২:৩১:৪৪অপরাহ্ন , ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪

আপডেট: ১২:৩১:৪৪অপরাহ্ন , ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের পর ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভুয়া খবর ছড়ানোর প্রবণতা বেড়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সত্য যাচাই ছাড়াই এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।

ভারতের তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান অল্ট নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর হামলা বা নিপীড়নের ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঘটনা নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, শেরপুরের মুর্শিদপুরে দরবার শরিফে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিওকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এটি মূলত মুসলিমদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ছিল।

একইভাবে, ঢাকার মাতুয়াইলের মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে ছাত্রদের সংঘর্ষের একটি ভিডিওকে 'হিন্দু গণহত্যা' হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই ভুয়া তথ্য শেয়ার করেছেন।

ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমের প্রবণতা

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের কিছু গণমাধ্যম এখন আর আগের মতো সাংবাদিকতার মান ধরে রাখতে পারছে না। তথ্য যাচাই ছাড়াই ব্রেকিং নিউজের প্রতিযোগিতায় ভুয়া খবর প্রচার করা হচ্ছে। অল্ট নিউজের সম্পাদক প্রতীক সিনহা জানিয়েছেন, এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাতেও দেখা গেছে।

ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো বাংলাদেশ নিয়ে এমনভাবে প্রতিবেদন তৈরি করছে যেন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিরোধ চলছে। এতে বাংলাদেশের মুসলমানদের জিহাদি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং হিন্দুদের নির্যাতিত হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট

পুনের এমআইটি এডিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম বিভাগের সহযোযোগী অধ্যাপক সম্বিত পাল বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমের আচরণে পরিবর্তন এসেছে। আগে যেভাবে হাসিনা সরকারের প্রতি সমর্থন ছিল, এখন তা নতুন সরকারের বিরুদ্ধে গেছে।

সম্বিত পাল আরও মনে করেন, বাংলাদেশ নিয়ে ভুয়া খবর ছড়ানোর পেছনে ভারতের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। ভারতের আসন্ন নির্বাচনে হিন্দু ভোট ধরে রাখতে বাংলাদেশের ঘটনাবলীকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশকে নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার ভুয়া খবর প্রচার করে ভারতের হিন্দুদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। অতীতে পাকিস্তানকে এই কাজের জন্য ব্যবহার করা হলেও এখন বাংলাদেশকে সামনে আনা হয়েছে।

অল্ট নিউজের সম্পাদক প্রতীক সিনহা বলছেন, এটি আসলে ভারতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর একটি ঘুরপথ। বাংলাদেশের ঘটনাগুলোর ভুয়া খবর ভারতীয় মুসলিমদের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব

ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে প্রচারিত এসব ভুয়া খবর দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা নয়, বরং ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিই এসব ঘটনার মূল চালিকাশক্তি। ভারতের শাসক দল এবং তার ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমগুলো এভাবেই হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের আখ্যান তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।

এতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের জনগণের উচিত বিভাজন সৃষ্টিকারী এসব ভুয়া খবর সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সম্পর্ক উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করা।

reporter