ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৫ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

আত্মবিনাশের পথে সভ্যতা: বিশ্বজুড়ে বর্জ্য সংকট নিয়ে ড. ইউনূসের সতর্কবার্তা

reporter

প্রকাশিত: ০২:৫৬:২৪অপরাহ্ন , ২৪ এপ্রিল ২০২৫

আপডেট: ০২:৫৬:২৪অপরাহ্ন , ২৪ এপ্রিল ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

আমরা যে সভ্যতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা আত্মবিনাশের দিকে এগোচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুরে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের বি২৩৯ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘তিন শূন্যের একটি বিশ্ব নির্মাণ: শূন্য নেট কার্বন নির্গমন, শূন্য সম্পদ মজুদ এবং শূন্য বেকারত্ব’ শীর্ষক এই অধিবেশনের আয়োজন করে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে ড. ইউনূস তাঁর ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।

ড. ইউনূস বলেন, “আমরা যে সভ্যতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছি, তা আত্মবিনাশী। এ সভ্যতা দিন দিন শুধুই বর্জ্য তৈরি করছে। আমরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকৃতিকে ধ্বংস করছি, সমাজে বৈষম্য বাড়াচ্ছি এবং তরুণ প্রজন্মকে কর্মহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছি। এই অবস্থা চলতে থাকলে তা একসময় মানবজাতির ধ্বংস ডেকে আনবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “শুধু টেকসই উন্নয়ন নয়, এখন সময় এসেছে টেকসই সভ্যতার দিকেও মনোযোগ দেওয়ার।”

তিনি তাঁর তত্ত্বে ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে একটি সমাজ শূন্য কার্বন নির্গমনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করতে পারে, সম্পদ পুনঃবিন্যাস করে সামাজিক ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে এবং বেকারত্ব নির্মূলের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। তাঁর মতে, এই তিনটি শূন্য অর্জন করতে পারলেই পৃথিবী একটি বাসযোগ্য জায়গা হয়ে উঠবে।

অনুষ্ঠান শেষে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল সানির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। এই বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্পের সম্ভাবনাও উঠে আসে আলোচনায়।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধিবেশনে ড. ইউনূসের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর উপস্থাপিত তত্ত্ব বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকদের নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে বলেও অভিমত প্রকাশ করেছেন উপস্থিত গবেষক ও বিশ্লেষকেরা।

reporter