ছবি: সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে শনিবার অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে; দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে যত বিতর্ক, দূরত্ব ও প্রত্যাশা জমে ছিল—এই আয়োজন সেই জায়গায় মানবিক সখ্যতা ও রাজনৈতিক আস্থার পুনর্বিন্যাস নিয়ে আসে। অনুষ্ঠানস্থলে এসে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান; তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি বলেন যে নানা বাস্তবতায় কয়েক বছর সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ হয়নি, তাই সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও সংযোগ তৈরির প্রয়োজনে দলের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আয়োজন শুধু শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, বরং দল ও গণমাধ্যমের মধ্যকার বোঝাপড়া, বর্ণনার প্রতিযোগিতা এবং রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপও বটে; বিশেষ করে ভোটের আবহ, মনোনয়ন, প্রচার ও বর্ণনার লড়াই যখন তুঙ্গে—তখন সাংবাদিকদের সঙ্গে দৃশ্যমান শুভেচ্ছা বিনিময় রাজনীতির মাঠে ইতিবাচক সংকেত দেয়। আবার অনেকেই ঘটনাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখছেন—দীর্ঘ সময় পর সামনাসামনি দেখা, কুশল বিনিময়, কথাবার্তা ও সৌজন্যতা একটি রাজনৈতিক পরিবেশে শীতলতা কমাতে এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনার পথ খুলে দেয়। অনুষ্ঠানের ভেতর-বাইরে এই আয়োজনের ছবি, ভিডিও ও উদ্ধৃতি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরোয়া রাজনীতি থেকে কূটনৈতিক পর্যায়ের বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয় যে বিএনপি রাজনৈতিক ন্যারেটিভে গণমাধ্যমকে আবারও কেন্দ্রস্থলে রাখতে চায়। সব মিলিয়ে, নির্বাচনপূর্ব সময়ের টানটান উত্তেজনার মাঝেও এই শুভেচ্ছা বিনিময় একটি ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ভাষা ও ভদ্রতার ইঙ্গিত দেয়—যা সমসাময়িক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক আচরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।
repoter

