ছবি: ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মনোনয়নে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ ও বিতর্ক এখন যেনো নির্বাচনী উত্তাপের আরেকটি মাত্রা যোগ করেছে, শুক্রবার পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন—যার মধ্যে শুধুমাত্র শেষ দিনেই জমা হয়েছে ১৭৬টি; এসব আপিলের মূল বিষয় মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ, যা প্রার্থিতার বৈধতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ যৌক্তিক ও আইনি প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে; শনিবার সকাল থেকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শুরু হবে এবং ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রম অনুযায়ী আপিলগুলো শোনা হবে—প্রথম দিনে ১–৭০, পরের দিন ৭১–১৪০, এরপর ১৪১–২১০ ও ২১১–২৮০ নম্বর আপিল শুনানির সময়সূচি নির্ধারিত; বাকি আপিলের তারিখ পরে জানানো হবে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে; এর আগের চার দিনে পর্যায়ক্রমে ১৭৪, ১৩১, ১২২ ও ৪১টি আপিল কমিশনে জমা হয়, যা নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা, জোটের হিসাব-নিকাশ, এবং স্থানীয় পর্যায়ের কৌশলগত প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়; মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ দিনে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র থেকে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং ৭২৩ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়—এই বাতিল হওয়া মনোনয়নই এখন আপিলের বড় অংশ, ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বারবার দেখা দেওয়া আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক বিবেচনার প্রশ্ন আবার আলোচনায়; রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কৌশল বদলে আপিলকে ‘শেষ লড়াই’ হিসেবে দেখছে—কারও জন্য বাঁচামরার চেষ্টা, কারও জন্য বৈধতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ; নির্বাচন কমিশনের জন্যও এটি একটি চাপপূর্ণ সময়—একদিকে সময়সীমা, অন্যদিকে স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া এবং জনআস্থার প্রশ্ন; আপিল শুনানির পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্বাচনী মাঠের চূড়ান্ত চেহারা নির্ধারণ করবে—কারা ব্যালটে থাকবে, কারা বাদ পড়বে, কোন আসনে কোন জোট বা দলের শক্তি বাড়বে বা কমবে, এমনকি জাতীয় রাজনীতির আগাম দিকনির্দেশনাও কিছুটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে; মাঠপর্যায়ে প্রার্থীদের প্রচার-কৌশল প্রস্তুতি, দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা, ভারসাম্যপূর্ণ জোটগঠন এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক বিবেচনা এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, সেই কারণে বাছাই প্রক্রিয়া ও আপিল শুনানি এখন নির্বাচনের আলোচিত কেন্দ্রবিন্দু; ফলাফল প্রকাশ ও চূড়ান্ত প্রার্থীতার তালিকা আসলে ভোটের আগের গণনা, আলোচনা, বিশ্লেষণ ও মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
repoter

