ঢাকা,  রবিবার
১১ জানুয়ারী ২০২৬ , ০৭:০৩ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকট ও ভোগান্তিতে অচল ফিলিং স্টেশনগুলো * ইরানে বিক্ষোভের তীব্রতায় মার্কিন হামলার ইঙ্গিত, উত্তপ্ত হচ্ছে ভূরাজনীতি * মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫ আপিল, কাল থেকে শুনানি শুরু * বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে তারেক রহমান * নির্বাচন ঘিরে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকার দাবি প্রেস সচিবের * যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে ভেনেজুয়েলার নতুন চুক্তি * এবার রাশিয়ার তেলের জন্য ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা * প্রয়োজনে খামেনিকে হত্যা—মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় মার্কিন সিনেটরের নতুন হুঁশিয়ারি * বাপ্পী কলকাতায় আত্মগোপনে, হাদি হত্যা মামলায় ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ * পাতানো নির্বাচন আর হবে না: সিইসি

ইরানে বিক্ষোভের তীব্রতায় মার্কিন হামলার ইঙ্গিত, উত্তপ্ত হচ্ছে ভূরাজনীতি

repoter

প্রকাশিত: ০১:০৯:৫৭অপরাহ্ন , ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ০১:০৯:৫৭অপরাহ্ন , ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (বামে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ছবি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (বামে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ইরানজুড়ে টানা বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও রক্তপাত যখন নতুন মাত্রা ছুঁয়েছে, তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো উদ্বেগ বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তিনি সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন—এমন বক্তব্য শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকে আরও প্রকটই করে না, মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য, ভূরাজনীতি ও জোটবিন্যাসের ক্ষেত্রেও নতুন ঝড় তুলেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বহু শহরে বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ, রাস্তা অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও পাল্টা হামলার দৃশ্য, আর এই পরিস্থিতি দমন করতে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে দেশ–বিদেশে তথ্যপ্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, কত মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও বহু মানবাধিকার সংস্থা বলছে যে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং বিক্ষোভকারীদের অনেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পড়ে যাচ্ছেন; পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আরেক সূচক হলো সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির টেলিভিশন ভাষণ, সেখানে তিনি বিক্ষোভকে বিদেশপ্ররোচিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি অভিযুক্ত করেন এবং সতর্ক করে বলেন যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কারও জন্যই ছাড় থাকবে না; এমন বার্তায় অভ্যন্তরীণ সংকট আরও রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে, কারণ অনেক বিক্ষোভকারী অভিযোগ তুলছে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে, অন্যদিকে সরকারের নির্দেশনায় নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, বিদেশি শক্তি ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রকারীরা পরিস্থিতিকে গৃহযুদ্ধের মতো করে তুলতে চাইছে; সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, যদি মার্কিন প্রশাসন সত্যিই সামরিক শক্তি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে যায়, তবে তা শুধু ইরান নয়, ইরাক, সিরিয়া, সৌদি আরব, ইসরায়েল, লেবানন থেকে শুরু করে রাশিয়া–চীন পর্যন্ত বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক চক্রকে সরাসরি প্রভাবিত করবে, কারণ ইরান ওই অঞ্চলে বহু কৌশলগত জোট, প্রক্সি গ্রুপ ও মার্কেট রুট নিয়ন্ত্রণ করে; পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শিপিং রুট, অস্ত্র বিক্রি ও ডলার নির্ভর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে; এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে বিশ্ববাসী নির্ভর করছে শৌখিন ভিডিও, স্যাটেলাইট চিত্র ও মানবাধিকার প্ল্যাটফর্মের সীমিত রিপোর্টের ওপর—এতে তথ্যের ঘাটতি যেমন রয়েছে, তেমনি উত্তেজনার মাত্রাও আরও বেশি; পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এই বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক ক্যালকুলেশন বদলে দিতে পারে এবং মার্কিন হুমকি যুক্ত হওয়ায় সংঘাত কূটনৈতিক পথ থেকে সামরিক সমীকরণের দিকে সরে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের আগামী অধ্যায়ে আরেক বড় সংকটের ইঙ্গিত।

repoter