ঢাকা,  রবিবার
১১ জানুয়ারী ২০২৬ , ০৭:০৮ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকট ও ভোগান্তিতে অচল ফিলিং স্টেশনগুলো * ইরানে বিক্ষোভের তীব্রতায় মার্কিন হামলার ইঙ্গিত, উত্তপ্ত হচ্ছে ভূরাজনীতি * মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫ আপিল, কাল থেকে শুনানি শুরু * বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে তারেক রহমান * নির্বাচন ঘিরে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকার দাবি প্রেস সচিবের * যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে ভেনেজুয়েলার নতুন চুক্তি * এবার রাশিয়ার তেলের জন্য ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা * প্রয়োজনে খামেনিকে হত্যা—মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় মার্কিন সিনেটরের নতুন হুঁশিয়ারি * বাপ্পী কলকাতায় আত্মগোপনে, হাদি হত্যা মামলায় ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ * পাতানো নির্বাচন আর হবে না: সিইসি

আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম, বাণিজ্যিকীকরণ ও শিক্ষার সংকটের দীর্ঘদিনের অভিযোগ

repoter

প্রকাশিত: ১২:৩১:১০অপরাহ্ন , ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১২:৩১:১০অপরাহ্ন , ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে চিকিৎসা সেবা, রোগী সুবিধা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও মেডিকেল শিক্ষায় নানা ধরনের অনিয়ম ও বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসা নেওয়ার খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও সেবার মান সেই অনুযায়ী উন্নত নয়। হাসপাতালের ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, খাবারে তেলাপোকা, মশা-মাছি ও পচা উপকরণের ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়, অথচ এসব বিষয়ে বারবার অভিযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাঁদের দাবি, এমন পরিবেশ ও খাবারের মান সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ করে তুলতে পারে, যা একজন রোগীর জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

চিকিৎসা কর্মীদের বেতন ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনা নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। জানা যায়, বহু চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী মাসের পর মাস নিয়মিত বেতন পান না, ফলে কর্মপরিবেশে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং মনোবল কমে যায়। রোগীরা মনে করেন, কর্মীরা নিজেরাই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলে রোগীরা মানসম্মত সেবা আশা করতে পারেন না। একাধিক কর্মীর দাবি, চাকরি হারানোর ভয় ও অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত শিক্ষক, ল্যাব সুবিধা, শ্রেণিকক্ষ ও মিউজিয়াম সরঞ্জাম থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এসব সুবিধার ঘাটতি আছে বলে অভিযোগ। এছাড়া নিয়মের বাইরে আসন সংখ্যা বাড়ানো, নিজস্ব জমি না থাকা এবং লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই ও আসন সংকট শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশকে আরও সংকুচিত করে।

একাডেমিক ও সেবা—উভয় ক্ষেত্রে এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর তদারকি বা প্রশ্ন তোলার মতো সাহসী অবস্থান খুব কম দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়মুক্তির সুযোগে এমন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়েছে। হাসপাতাল ও কলেজের আর্থিক ও বাণিজ্যিক দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিপুল অর্থে ঋণ গ্রহণ, সম্পদ সংগ্রহ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগসহ নানা বিতর্কের জন্ম হয়েছে, যদিও এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে জবাবদিহি সীমিত। পর্যবেক্ষকদের মতে, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো সংবেদনশীল খাতে বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে রোগী, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি সংস্থা বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জবাবদিহি বৃদ্ধি করার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।

repoter